জনসংখ্যার ঘনত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে



নওগাঁ জেলায় বদলগাছী উপজেলার মোট আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারী সূত্র মোতাবেক আয়তন অনুসারে এই উপজেলার মোট জমির পরিমাণ ৫২,৭০৭.০৫ একর।
পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের আর একটি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের এক জরিপ অনুসারে এই উপজেলার মোট পরিবার সংখ্যা প্রায় ৫৬,৩৪৫ জন।

আবার উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে উপজেলার আয়তন বা জমির পরিমাণ আরো কম।

এ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে উপজেলার আয়তন বা জমির পরিমাণের চেয়ে উপজেরার জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি এবং দিন দিন বেড়েই চলেছে। তার পরেও উপজেলায় কৃষি জমি সংরক্ষণের কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই।

জনসংখ্যা যেভাবে হু হু করে বেড়ে চলেছে কৃষি জমির উপর জনসংখ্যার চাপ ততই বাড়ছে। নতুন নতুন স্থাপনা দোকান পাট বা বাড়ি ঘর নির্মাণে এক গ্রাম আরেক গ্রামের সঙ্গে, মিলিত হয়েছে। ভিটে জমি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

এক খন্ড জমি এখন একাধিক অংশে ভাগ হয়েছে। যে কারণে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এই উপজেলায় বেড়ে গিয়েছে। তার পরেও কৃষি জমি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না কেউ।

কৃষি জমি বিনষ্ট করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে ইটভাটা। তাছারা উন্নয়নের নামে খাল বিল ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে আবাসন প্রকল্প। সমাজের এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা কর্মকর্তার আবাসন আগ্রাসীর শিকার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিলগুলো।

এতে ধ্বংস হচ্ছে বিলের অস্তিত্ব সেই সাথে সংকটের মুখে প্রাণীকূল। কৃষি জমি জরিপ অনুসারে এই উপজেলায় জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে কৃষি জমি তার চেয়ে অধিকহারে হারিয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র নিতিমালা উপেক্ষা করে, চলছে বেপরোয়া অবৈধভাবে পুকুর খনন।

চলছে ইটভাটায় মাটি বিক্রির ধুম। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলার প্রতিবছর গড় জন্ম হার প্রায় সাড়ে ১৫শত জন।

সে হিসেবে প্রতি বছর অধিক হারে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়ে চলেছে কিন্তু উপজেলার আয়তন বা জমি বাড়ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান আলী বলেন, কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।

কৃষি জমি সংরক্ষণের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন উপজেলার সচেতন মহল।


সূত্র: আহসান হাবীব শিপলু বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি





এন্টি ডায়াবেটিস গাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে


গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স। এটা চীন এবং সুইজারল্যান্ডে স্থানীয়ভাবে ডান্ডালিউয়েন নামেও বেশ পরিচিত। আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, চীন, মালেয়শিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিশ^ জয় করে এই এন্টি ডায়াবেটিস গাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে।

সকাল বিকাল ইনসুলিন কিংবা ট্যাবলেট নয়, এবার আপনার ডায়াবেটিস সম্পূর্ণরুপে নিয়ন্ত্রণ করবে বিদেশি ঔষধি গুণসমৃদ্ধ একটি গাছের পাতা। প্রতিদিন খালিপেটে ২ টি পাতা সেবনে শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার। এমটাই দাবি চীন এবং সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, সম্পূর্ণ পাশ্ব প্রতিক্রিয়াহীন এন্টি ডায়াবেটিস এই গাছটির পাতা এবং পাতার রস সেবনে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

গাছটির ২ টি পাতা প্রতিদিন খালি পেটে সেবনে শুধু সুগার এবং কলস্টেরল নিয়ন্ত্রণই করে না, তরতাজা রাখে কিডনি, লিভার এবং নিয়ন্ত্রণে রাখে ব্লাড প্রেসার। এছাড়া সুগার স্বভাবিক মাত্রার তুলনায় আরো কমিয়ে হাইপোগ্লামিয়ার বিপদ থেকেও রক্ষা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে এই গাছের পাতা।



যাদের ডায়াবেটিস, প্রেসার এবং কলস্টেরোল সমস্যা আছে, তাদের প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ টি পাতা সেবন করতে হবে। তবে ইনসুলিন ব্যবহার কারী এবং গ্যাস্ট্রিক আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সকালে খালি পেটে ২ টি পাতা এবং রাতে শোবার আগে ২ টি পাতা সেবন করতে হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, প্রথম দুই মাস ডায়াবেটিস এর নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি খালি পেটে ২ টি পাতা সেবন করতে হবে। দুই মাস পর থেকে শুধু ২ টি করে গাছের পাতা খেলেই চলবে।

এই গাছের পাতা খেয়ে উপকৃত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হোসাইন মুহাম্মদ জাকির। তার সাথে কথা হয় প্রতিক্ষণ ডট কমের সাথে। তিনি জানান, ‘এটা খুব চমৎকার কাজ করে। সাত বছর আগে আমার ডায়াবেটিস ১১ ধরা পড়ে। সুইজারর্ল্যাড থেকে এই গাছটি পাবার পর আমি আর কখনও মেডিসিন নেইনি।’



মেজর জাকির বলেন, ‘এই গাছের পাতার সাথে রসুন, নিমপাতা, কাঁচা তেঁতুল পেস্ট করে একদিন রোদে শুকিয়ে ছোট মার্বেলের মতো অনেকগুলো বল বানিয়ে, আবার একদিন রোদে শুকিয়ে, একটি এয়ার টাইট বোতলে সংরক্ষণ করার পর, প্রতিদিন চিবিয়ে ১/২ টি বল খেয়ে পানি পান করলে কার্যকারীতা আরো ভালো হয়’।

তিনি আরো বলেন, ‘এটা খেয়ে আমার ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এখন আমি কোন রেসটকশন মানিনা, জীবনকে উপভোগ করছি। আমার পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও ইনসুলিন নেয়া বন্ধ করেছে। এই গাছের পাতা হার্টের রোগেও ভাল কাজ করে। 

মেজর জাকিরের মতো বিশ্বের অনেকেই এখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এই হার্ব গাছটি সংগ্রহে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ভেষজ ওষধি গুণসম্পন্ন এই গাছটি বেঁচে থাকে ২৫ বছর। সর্বোচ্চ ৩ ফুট লম্বা হয়। এরপর ডালাপালা বিস্তার করে জঙ্গলের মতো হয়ে যায়। তবে এ গাছে সকাল-বিকাল নিয়মিত পানি দিতে হয়। স্যাঁস্যাতে পরিবেশ এ গাছের জন্য বেশ উপযোগি। সর্বনিম্ন ১০ ইঞ্চি টবে গোবরের সার ও মাটি মিশিয়ে চারা রোপন করতে হবে। বছরে অন্তত দুই বার মিশ্র সার ব্যবহার করতে পারেন। এই গাছটি ঘরের বারান্দায়, বাড়ির ছাদে ও টবে নিশ্চিন্তে লাগাতে পারেন। তবে সরাসরি মাটিতে এটা বেশ ভালো হয়।

ঊল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ২ টি পাতা সেবন করলে তার কিডনি ও লিভার সতেজ থাকবে। ডায়াবেটিস, প্রেসার এবং কলস্টেরল সমস্যা তার হবে না। এছাড়া এই পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। এই গাছের পাতা খেলে ডায়াবেটিস টাইপ-২ কমবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বর্তমানে এটির নামডাক সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। চীনসহ সারা বিশ্বে এটি এন্টি ভাইরাস হিসেবেও খুব পরিচিত।

বিনাসয়াবীন-২ এর চাষাবাদ পদ্ধতি







সয়াবিন বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলবীজ ফসল। বর্তমানে বাংলাদেশে যা সয়াবিন উৎপাদিত হয় তা চাহিদার এক পঞ্চমাংশ মাত্র। এ চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞানীগণের উন্নত জাত উদ্ভাবনের চেষ্টার অংশ হিসাবে সয়াবিনের একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন যা “বিনাসয়াবিন-২” নামে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে সারাবছর চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে । এ জাতটি প্রধান বৈশিষ্ট সম্পর্কে জাতটির প্রধান উদ্ভাবক উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মোঃ আব্দুল মালেক, বলেন- উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছের উচ্চতা রবি মৌসুমে ২৭-৪০ সে.মি. এবং খরিফ-২ মৌসুমে ৩৫-৪২ সে.মি.। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫টি। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৪০-৫০টি। বীজ আকারে মাঝারি ধরণের এবং ১০০ বীজের ওজন ১৩.০-১৩.৮ গ্রাম। বীজে আমিষ, তেল এবং শর্করার পরিমাণ যথাক্রমে ৪৩, ১৯ এবং ২৬%। রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে জীবনকাল যথাক্রমে ১১৫ এবং ১১৭ দিন। রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে যথাক্রমে ২.৫-২.৮ এবং ২.৭-৩.৩ টন/হে. ফলন পাওয়া যায়।

মাটি ও আবহাওয়া: রবি এবং খরিফ উভয় মৌসুমেই সয়াবীন চাষ উপযোগী। বেলে দো-আঁশ, দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটিতে সয়াবীন চাষ করা যায়। খরিফ মৌসুমের জন্য উঁচু ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য জমি এবং রবি মৌসুমের জন্য মাঝারি থেকে নিচু জমি নির্বাচন করতে হবে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা, যশোহর, ময়মনসিংহ অঞ্চল সয়াবিন চাষের জন্য উপযোগী এলাকা।

জমি তৈরি: মাটির প্রকারভেদে ৩-৪ টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে এবং আগাছামুক্ত করে বীজ বপন করতে হবে। মই দিয়ে জমি সমান করার পর সুবিধামতো আকারে প্লট তৈরি করে নিলে পরবর্তীতে জমিতে সেচ প্রয়োগ, পানি নিষ্কাশন ও অন্তরবর্তীকালীন পরিচর্যা সুবিধা হয়।

বপনের সময়: রবি ও নাবী খরিফ উভয় মৌসুমেই সয়াবীন বপন করা যায়। রবি মৌসুমে পৌষের প্রথম থেকে মাঘ মাসের মাঝামাঝি (ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ) পর্যন্ত এবং নাবী খরিফ মৌসুমে মধ্য আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি (জুলাইয়ের প্রথম থেকে আগষ্টের শেষ) পর্যন্ত। খরিফ মৌসুমে উল্লিখিত সময়ের আগে বপন করলে ফুল আসতে কিছুটা বিলম্ব হয় বিধায় ফসলের আয়ুকাল দীর্ঘায়িত হয়।

বীজের হার: সারিতে বপনের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ২২ কেজি (হেক্টরে ৫৫ কেজি) এবং ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ২৮ কেজি (হেক্টরে ৭০ কেজি)।

বপন পদ্ধতি: সয়াবীন বীজ সারিতে বপন করা উত্তম। তবে মাসকলাই বা মুগ ডালের মতো ছিটিয়েও বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দুরত্ব রবি মৌসুমে ৩০ সেঃমিঃ দিতে হবে। সারিতে ৩-৪ সেঃমিঃ গভীর করে বীজ বপন করতে হয়। ছিটিয়ে বপন করলে চাষের পর বীজ ছিটিয়ে মই দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে। বপনের পূর্বে ছত্রাক বা কীটনাশক দ্বারা বীজ শোধন করে নিলে ভালো।

সারের মাত্রা ও প্রয়োগ: জমির উর্বরতা সব জায়গায় সমান নয়। তাই কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভেদে সারের মাত্রা বিভিন্ন রকম হয়। সয়াবীন চাষের জন্য সাধারণভাবে অনুমোদিত সারের মাত্রা হলঃ একর প্রতি ইউরিয়া ২০-২৫ কেজি অথবা জীবাণুসার প্রতি কেজি বীজের জন্য ২৫-৩০ গ্রাম, টিএসপি ৬০-৭০ কেজি, এমওপি ৩৫-৪০ কেজি, জিপসাম ৩৫-৪৫ কেজি। রাসায়নিক সারসমূহের সাথে পঁচা গোবর বা কম্পোষ্ট সার প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সার কম লাগবে। শেষ চাষের পূর্বে রাসায়নিক সার ছিটিয়ে মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে।

জীবাণুসার প্রয়োগ ও ব্যবহার পদ্ধতি: সয়াবীন গাছ রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে গাছের শিকড়ে জমা করতে পারে। বপনের আগে বীজে জীবাণুসার মিশিয়ে বপন করলে গাছের শিকড়ে নডিউল বা গুটি সহজে সৃষ্টি হয় এবং এ নডিউল থেকে গাছ নাইট্রোজেন পায়। এক কেজি ভিজা সয়াবীন বীজের মধ্যে ২০-৩০ গ্রাম জীবাণুসার ছিটিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজের গায়ে সমভাবে মিশে যায়। জীবাণুসার মিশানোর পর বীজ বেশি সময় রোদে ফেলে রাখলে গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই তাড়াতাড়ি বীজ বপন করতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: চারা গজানোর ২০-২৫ দিনের মধ্যে আগাছা দমন করতে হবে। গাছ খুব ঘন হলে পাতলা করে দিতে হবে, জাতভেদে সারিতে গাছ হতে গাছের দূরত্ব রাখতে হবে ২.৫-৪.০ ইঞ্চি। তবে প্রতি বর্গ মিটারে রবি মৌসুমে ৫০-৫৫টি এবং খরিফ মৌসুমে ৪০-৫০টি গাছ রাখা উত্তম। রবি মৌসুমে গাছে ফুল ধরা এবং ফল বা শুঁটি ধরার সময় সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হতে পারে। বৃষ্টি না হলে প্রথম সেচ বীজ গজানোর ২০-৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয় সেচ বীজ গজানোর ৫০-৫৫ দিন পর দিতে হবে। খরিফ মৌসুমে সাধারণত কোন সেচের প্রয়োজন হয় না, বরং জমিতে পানি জমে গেলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন: বিছাপোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা সয়াবীনের মারাত্মক ক্ষতি করে। ডিম থেকে ফোটার পর ছোট অবস্থায় পোকাগুলো একস্থানে দলবদ্ধভাবে থাকে এবং পরবর্তীতে আক্রান্ত গাছের পাতা খেয়ে জালের মতো ঝাঁঝরা করে ফেলে। এ পোকা দমনের জন্য আক্রান্তপাতা দেখে পোকাসহ পাতা তুলে পোকা মেরে ফেলতে হবে। পোকার আক্রমণ বেশি হলে সেভিন ৮৫ এসপি ৩৪ গ্রাম পাউডার প্রতি ১০ লিটার পানিতে অথবা এডভাটেজ ২০ এসসি ৩০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে ¯েপ্র করতে হবে।

কান্ডের মাছি পোকা: এ পোকার কীড়া কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের নরম অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে আক্রান্ত গাছের অংশ বিশেষ অথবা সম্পূর্ণ গাছ দ্রুত মরে যায়। এ পোকার দ্বারা আক্রান্ত হলে ডায়াজিনন ৬০ ইসি ২৫-৩০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে ¯েপ্র করতে হবে।

হলুদ মোজাইক ভাইরাস: সয়াবীনের সবুজ পত্রফলকের উপরিভাগে উজ্জ্বল সোনালী বা হলুদ রঙের চক্রাকার দাগের উপস্থিতি এ রোগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বিনাসয়াবীন-২ হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল। তবে সুস্থ এবং রোগমুক্ত বীজ বপনের মাধ্যমে এ রোগের আক্রমণ অনেকটা কমানো যায়।

কান্ড পঁচা রোগ: মাটিতে অবস্থানকারী ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। গাছের পাতা হলুদ হওয়া দেখেই এ রোগের আক্রমণ সনাক্ত করা যায়। আক্রান্ত গাছের কান্ড এবং মূলে কালো দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যায়। গভীর চাষ এবং জমি হতে ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলে এ রোগের উৎস নষ্ট করা যায়।

ফসল সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ

ফসল পরিপক্ক হলে গাছগুলো শুঁটিসহ হলুদ হয়ে আসে। এ সময় সয়াবীন গাছ মাটির উপর হতে কেটে সংগ্রহ করতে হবে। ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দানাগুলো আলাদা করতে হবে। মাড়াই করা বীজ রোদে ভালো করে শুকিয়ে ঠান্ডা করে গুদামজাত করতে হবে। সয়াবীনের অংকুরোদগম ক্ষমতা সাধারণ অবস্থায় বেশি দিন বজায় থাকে না। দুই থেকে তিন মাস পরই বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা কমতে শুরু করে। তাই পরবর্তী মৌসুমে লাগানোর জন্য বীজ সংরক্ষণ করতে হলে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে:

১. বীজ বিশেষ যত্নসহকারে ত্রিপল বা চাটাইয়ের উপর শুকাতে হবে। ২-৩ ঘন্টা করে কয়েক দিন শুকাতে হবে। শীতকালে একটানা ৪-৫ ঘন্টা ধরে শুকালেও কোন ক্ষতি হয় না। বীজ এমনভাবে শুকাতে হবে যাতে বীজের আর্দ্রতা ৯% এর বেশি না থাকে।

২. শুকানো বীজ ভালোভাবে ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং রোগাক্রান্ত পঁচা বীজ বেছে ফেলে দিতে হবে।

৩. পলিথিনের ব্যাগ, টিনের ড্রাম, আলকাতরা মাখা মাটির মটকা বা কলসীতে বীজ সংরক্ষণ করে মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে যেন কোনভাবেই ভিতরে বাতাস ঢুকতে না পারে। বীজ শুকানোর পর গরম অবস্থায় সংরক্ষণ না করে ঠান্ডাা হলে সংরক্ষণ করতে হবে।

৪. বীজের পাত্র অবশ্যই ঠান্ডা অথচ শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে। সরাসসি মেঝেতে না রেখে মাচা বা কাঠের তক্তার উপর রাখলে ভালো হয়।

৫. মাঝে মধ্যে বীজের আর্দ্রতার দিকে নজর রাখতে হবে। বীজের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে প্রয়োজন মতো রোদে শুকিয়ে পূর্বের ন্যায় একই নিয়মে পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

লেখকঃ *প্রিন্সিপাল সায়িন্টিফিক অফিসার,

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ।

শেকৃবির ‘৯০ মিনিট স্কুল কৃষির সমস্যা সমাধানে







শহরাঞ্চলে ফুল, ফল ও সবজির পারিবারিক বাগান এখন আর কেবলই সৌখিনতা বা পারিবারিক প্রয়োজন নয়। পরিবেশ রক্ষা আর নগরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে অনেক দেশেই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গাড়ি বারান্দা, ফুটপাত, পার্ক, সরকারি খাস ভূমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে উদ্যান ফসল ও বাহারি ফুলের গাছের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে সবুজ নগরায়ন। আমাদের দেশেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে ছাদ বাগানের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে শহরে সবুজায়ন শুরু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নয় বরং একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এদেশে ছাদ বাগানের সূচনা । কিন্তু এই বাগান করতে গিয়ে অনেকেই আবার বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেমন-গাছের পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ, কোন ফসলের কোন রোগের জন্য কোন ওষুধ কার্যকর, গাছ মরে যাওয়া, আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়া, কখন কোন গাছ লাগাতে হবে ইত্যাদি। এ জাতীয় সমস্যার সমাধানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘৯০ মিনিট স্কুল’ নামে বিশেষ সেবা। এ সেবার আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের গ্রাফটিং বা কলমের চারা তৈরী করার কলা কৌশলও শিখানো হচ্ছে হাতে কলমে।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় প্রশ্ন ও উত্তর পর্বের। প্রতি শুক্রবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে সকাল ১০টা হতে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত (৯০ মিনিট) চলে এ প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব। এ সময় বাগান মালিকরা তাদের সমস্যার কথা জানান এবং অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন সেসব সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেন। এ সেবা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগুলো পরবর্তীতে আর্কাইভে থাকছে।

অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, বাগান করতে গিয়ে বাগানিরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের সমস্যার মুখে পড়েন। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্ন করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত উত্তর পান না। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার কথা চিন্তা করেই আমরা ৯০ মিনিট স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছি। তিনি আরও বলেন, এই প্রশ্নোত্তর পর্বের উদ্যোক্তা ফেসবুক গ্রুপ গ্রীন বাংলাদেশ। এ গ্রুপে প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট বিষয় উপর বাগানিদের সমসাময়িক সমস্যা জানতে চাওয়া হয়। এরপর বাগানিরা সেখানে তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এই সাত দিনের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয় শুক্রবার। প্রশ্নকারী ব্যক্তিরা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর সরাসরি জানতে পারছে সেখানে। এ ছাড়া আগ্রহী লোকজনকে হাতে-কলমে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জুরাইন থেকে আগত শাকিলা ইসলাম জানান, তার বাসার ছাদে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মরিচগাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। গাছ থেকে আশানুরূপ ফলনও পাচ্ছেন না তিনি। এসব সমস্যার সমাধান জানতে তিনি ছুটে এসেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ মিনিট স্কুলে। এখানে এসে উপযুক্ত সমস্যা সমাধান পেয়ে তিনি খুবই খুশি।

প্রশিক্ষণার্থীর শাহনাজ পারভীন ৯০ মিনিট স্কুল ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারনে সকালে ক্লাসে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন করে যদি সবগুলি ক্লাসের ভিডিও পাই তাহলে না যেতে পারার দুঃখটা কমে। এই দূরশিক্ষণের মাধ্যমে একদম প্রত্যন্ত এলাকার একজন বেগুন চাষী বা পাহাড়ি কোন মেয়ের শখের লেবু গাছ বাঁচানোর জন্য কি করতে হবে তা সহজেই বুঝতে পারবে। তাদের হতাশা আর অসহায়ত্ব কেটে যাবে। কৃষিবিভাগ যা করতে পারছে না তাদের হাজার হাজার কর্মী নিয়ে আপনি একাই এই ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে তা করে যাচ্ছেন। তিনি আরও লিখেছেন, গ্রামের বা রক্ষনশীল পরিবারের মেয়েরা যাদের বাইরে চলাচল ও লোকের সাথে কথা বলায় ততটা স্বাধীনতা নাই। কিন্তু বাসার আঙিনায় বা ছাদে ছোট্ট একটা বাগান আছে। তাদের জন্য এটা খুবই কার্যকর উদ্যোগ।

২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া এ স্কুলের কর্মসূচি ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। প্রতি শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেড় থেকে দুইজন অংশগ্রহণ করছে। বাণিজ্যিকভাবে ভাসমান সবজি চাষ, গোলাপ চাষ, প্লান্ট নিউট্রিউশন, দেয়াল কার্পেট গাছ, মাটি ও মাটি তৈরি নিয়ে কথা, ক্যাকটাস চাষ, টবে কিভাবে গাছ লাগাতে হয় প্রভূতি বিষয় সম্পর্কে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমসমায়িক বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

ড. জামাল উদ্দিন বলেন, বাগান করার পর উচ্ছিষ্ট বা অবশিষ্ট গাছের চারা ফেলে না দিয়ে অপরকে উপহার হিসেবে দেয়ার জন্যও আমরা উৎসাহ দিতে ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।

নতুন দিগন্তের হাতছানি পোল্ট্রি শিল্প সুরক্ষায়





প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম উপখাত হিসাবে পোল্ট্রি শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।



দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান আমিষের চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ হাজার ছোট-বড় পোল্ট্রি খামার রয়েছে যার সাথে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। দেশের মোট মাংসের চাহিদার ৪০-৪৫ শতাংশ আসে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। ডিম এবং মাংস সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রোটিন ঘাটতি পূরণে পোল্ট্রিখাতের অবদান সর্বজনবিদিত। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্প প্রায়শঃই সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির যার মধ্যে রোগ-বালাই অন্যতম। পোল্ট্রির বিজ্ঞানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে তিন বছর মেয়াদে পোল্ট্রির রোগের উপর বাংলাদেশের ৯০ জন প্রাণিচিকিৎসককে আর্ন্তজাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়েছে ফান্স।






বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রাণী স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের সেভা সান্তে এনিমালি (সেভা) ও বিশ্বের সুপ্রাচীন প্রাণিচিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগ কর্তৃক বাস্তায়িত ৩য় বারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে অক্টোবর মাসে সমাপ্ত হয়। তিন বছরের জন্য স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের মাধ্যমে প্রতি বছর সারা দেশের ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে চার মাসে চার সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিন সেশনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত পোল্ট্রি রোগ সংশ্লিষ্ট ২৪ জন ভেটেরিনারিয়ান, বেসরকারি খাতে কর্মরত পোল্ট্রি রোগ সংশ্লিষ্ট ৪৮ জন ভেটেরিনারিয়ান এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা কিন্তু পোল্ট্রি রোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহী ১৮ জন নির্বাচিত ভেটেরিনারিয়ান প্রশিক্ষণ লাভ করেন। সেভা’র পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি স্কুল অফ প্যারিসের আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ প্রশিক্ষকগণ প্রশিক্ষণার্থীদেরকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিন বছর মেয়াদে বাস্তায়িত এই প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে শেকৃবির এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ডঃ মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন এবং প্রোগ্রাম ইন চার্জ হিসেবে মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৫ অক্টোবর ট্রেনিং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রোভাইডার এসিআই এগ্রিবিজনেস কর্তৃক তেজগাঁওস্থ এসিআই সেন্টারে আয়োজিত এক জাকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণি চিকিৎসকদের মধ্যে উক্ত প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ করা হয়। এসিআই এগ্রিবিজনেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ, এইচ আনসারীর সভাপতিত্বে এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ট্রেনিং প্রোগ্রাম ইন চার্জ ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব কাজি ওয়াসিউদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস, এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম, ফরাসি ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর কন্টিনিউয়াল এডুকেশনের প্রধান প্রফেসর ড. কারিম আদযু, সেভা সান্তে এনিমালি ফ্রান্সের টেকনিক্যাল ম্যানেজার প্রফেসর ড. মুন্সেফ বউযুইয়া, প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. ম্যারি ডুক্রোটয়। অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিল্নে ফ্রান্স এম্বাসি বাংলাদেশের ডেপুটি হেড অফ মিশন, পলিটিক্যাল এন্ড কালচারাল এফেয়ার মি. এফজি টেকো।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের জলবায়ুসহ সার্বিক পরিবেশ পোল্ট্রি চাষে উপযোগী বিধায় এ সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এই শিল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। বর্তমানে এ শিল্পে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকার উর্ধ্বে হলেও পোল্ট্রির রোগবালাই চিকিৎসা ও প্রতিরোধ এবং আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তির অভাবে বারবার হোচট খাচ্ছে দেশের গুরুত্বপুর্ণ এই শিল্প। সুস্থ-সবল ও নীরোগ পোল্ট্রি শিল্প নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপুর্ণ এই শিল্প। রক্ষার্থে আয়োজিত এ ধরণের প্রশিক্ষণ নি:সন্দেহে পোল্ট্রি সেক্টরকে অনেক সমৃদ্ধ করবে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে এধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ধারাবাহিকভাবে করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ট্রেনিং প্রোগ্রাম ইন চার্জ ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম জানান ২০১৬ সালের ২২ জুন বাংলাদেশের প্রাণি চিকিৎসকদের পোল্ট্রির বিজ্ঞানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উন্নত জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় প্রাণীস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেভা সান্তে এনিমালি (সেভা) এবং ফ্রান্স ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর সাথে তিন বৎসর মেয়াদে বাস্তায়নযোগ্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে শেকৃবি’র এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ। স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় শেকৃবি’র মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের মাধ্যমে গত তিন বৎসর যাবত সারাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্য থেকে প্রতিবছর নির্বাচিত ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে চার সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বছর তৃতীয়বারের মত এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলো। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী ভেটেরিনারিয়ানগণ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পকে লাভজনক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি আরো জানান, এ ধরণের প্রোগ্রাম স্থানীয় একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে ভেটেরিনারি শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের পোল্ট্রির রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী প্রাণিচিকিৎসদের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন শেকৃবি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সেভা সান্তে এনিমালি ফ্রান্সের বাংলাদেশি বিজনেস পার্টনার ও ট্রেনিং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রভাইডার এসিআই এগ্রিবিজনেস এর বিজনেস ম্যানেজার ডা. মোঃ মইনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দসহ মিডিয়ায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ।

সূত্রঃ krishibarta






দেশী মুরগি পালন কৌশলের বর্ণনা

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বর্ণনা :-
আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।
গবেষনায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় ।
শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।
মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে । খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়।
ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।
ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষন :-
আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে।
দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহ :-
উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।
*** ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয়
নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো

সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
*** প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট
পালট করে দিতে হবে।
*** বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে
বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে
করে দিতে হবে।
*** ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা
শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।
বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :-
গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে।
উপরোক্ত বর্নিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।
মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।
প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে। দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় ।
ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে ।
* ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।

হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার

হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার... পশু খাদ্যের এক অপূর্ব সমাধান।

আমরা যারা ডেইরি, গরু মোটাতাজা করন, ছাগল ও গড়াল পালন করছি বা করতে চাই তারা কাঁচা ঘাসের সংকটে পরেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার জোগাড় করতে কি পরিমান ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যে সেটা করেছে সেই তার বিড়ম্বনার কথা বলতে পারবে।
এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হলো "হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার"। খুব সহজে, সল্প জায়গায়, অল্প খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে মান সম্মত পশু খাদ্য আমরা এর মাধ্যমে পেতে পারি। এর পুষ্টি গুন সাধারণ উফশী ঘাসের চেয়ে বেশি।

উপকরণ:
১. ২ কেজি পরিমান গম বা ভুট্টা (চারা গজাবে এমন)।
২. কিছু পানি।
৩. ট্রে বা ট্রের মতো পাত্র (৩'×২'×৩")।
৪. ঠান্ডা ও ছায়া যুক্ত পরিবেশ।
৫. একটি নিংড়ানো পুরান তোয়ালে বা চটের বস্তা।
৬. বালতি বা গামলা।
প্রস্তুত প্রণালী:
যে দিন করতে চান সে দিন, সকালে প্রথমে ভুট্টা বা গম ভাল করে ধুয়ে ৬-৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখবেন। বিকেলে পানি ছেকে ট্রেতে সাজিয়ে তার উপরে নিংড়ানো তোয়ালে বা চট দিয়ে ঢেকে ঠান্ডা ছায়া যুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। এরূপ রাখলে ১০-১৫ ঘন্টার মধ্যে ভুট্টা বা গম অঙ্কুর দেবে। অঙ্কুর দেয়ার পর অঙ্কুর ১-১.৫ ইঞ্চি হলে তার পর চট সরিয়ে রাখতে হবে। এবং অঙ্কুর দেয়ার পর থেকে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ৩-৪ ঘন্টা পর পর পানি স্প্রে বা ছিটিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি ট্রেতে জমে না থাকে। এমন করতে করতে ৭-৯ দিনের মধ্যে ৬-৯ ইঞ্চি হলে পশু কে এর কান্ড সহ খাওয়ানো যায়।
১ কেজি পরিমান ভুট্টা বা গমে ৭-১০ কেজি পরিমাণ গ্রিন ফোডার পাওয়া যায়।
হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডারের উপকারীতা:
১. এতে প্রোটিনের পরিমান ৩১.৯৯% আর সাধারণ ঘাসে প্রোটিন থাকে ১১.৫%।
২. এনার্জি ৪৭২৭কি:ক্যা:/KG আর সাধারণ ঘাসে ২৬০০কি:ক্যা:/KG।
৩. তাই সাধারণ ঘাস দিনে ৩ বার লাগে আর এটা ২ বার দিলে হবে।
৪. ২৪০ কেজি পরিমাণ ঘাস ফলাতে জমি লাগে ২১৭৮ বর্গফুট আর সমপরিমাণ গ্রিন ফোডার ফলাতে ২২৯ বর্গফুট জমি।
৫. সাধারণত ৮০ লিঃ পানি খরচ করে যে পরিমাণ ঘাস পাওয়া যায়। সে পরিমান গ্রিন ফোডার ফলাতে মাত্র ৩ লিঃ পানি লাগে।
৬. ৭-৯ দিনে এই ফোডার যে পরিমাণ বাড়ে, সে পরিমান সাধারণ ঘাস বড় হতে লাগে ৩৭-৪০ দিন।
৭. গ্রিন ফোডার নিরাপদ, ফুড পয়জনিংয়ের সম্ভাবনা নাই। দূষণ মুক্ত।
৮. এটা সহজে পশুকে পরিবেশন করা যায়। কাটা কাটির দরকার হয় না।
৯. এটা পশুর স্বাস্থ্য ভাল করে এবং দ্রুত প্রজনন ক্ষম করে কারন এতে অনেক ভিটামিন উপাদান আছে।
১০. ১ কেজি ফডারের উৎপাদন খরচ ২.৫-৪ টাকা।
১১. এর মাধ্যমে খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো যায়।
১২. সারা বছর এটা উৎপাদন করা যায়।
বি:দ্র: আমি নেট ঘাটাঘাটি করে লিখলাম। নিশ্চয়ই এতে ভুল থাকতে পারে। তাই আমার ভুল ক্ষমা করে, কমেন্টে সাপ্লিমেন্ট দিবেন আশাকরি।

ব্লেক বেঙ্গল

আপনি জানেন কি আধুনিক পদ্ধতিতে ১০০টি ব্লেক বেঙ্গল / দেশীয় ছাগল পালন করে
১ বৎসরে ২৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব । কিন্তু করতে হবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ।
িস্তারিত পদ্ধতি নিচে মোবাইল - 01990198469
পরু লেখাটা না পড়ে দয়া করে কেহ কল দিবেন না।
ফামর্ শুরু করতে যা যা লাগবে ।
১) প্রথমে ৬৬ শতাংশ জমিতে নেপিয়ার চাষ শুরু করবেন। সঠিক পরিচযর্ায় নেপিয়ার ৪০-৪৫ দিনে পূনাঙ্গ হবে। ঘাস তৈরি না করে ভুলে ও ছাগল কিনবেন না। তা হলে প্রথম দিন হতে ই আপনার ফামর্ে লস হতে শুরু করবে।
২) একই সময়ে আপনাকে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক ঘর তৈরি করতে হবে, ঘর তেরীতে যা লাগবে, ১হাজার ইট, ২০ টি নেট, ১৮ টি সিমেন্টের খুঁটি, গ্রীল বা বাঁশ আর প্রয়োজনীয় টিন। খরচ ৩-৪ লক্ষ টাকা ।
৩) দেশীয় জাতের পিউর ব্লেকবেঙ্গল ছাগল ১০০টি ।
৪) একটি উন্নত জাতের পাঠা/ বাক ।
৪) ঘর তৈরির জন্য ২ শতাংশ জায়গা।
৫) আধুনিক ছাগল পালন পদ্ধতি সমন্ধে বাস্তব জ্ঞান বা হাতে কলমে ট্রেনিং। সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে করলে সবচেয়ে ভালো হয়। ট্রেনিং ছাড়া ভুলে ও শুরু করবেন না, ট্রেনিং ছাড়া করলে প্রথমে হয়ত ৫-৬ হাজার টাকা সেভ করেছেন মনে হবে, কিন্তু বাস্তবে ৭-৮ লক্ষ টাকা পুরোটাই নষ্ট হবে , এক বছরের পূবর্েই ফামর্ টি বন্দ হয়ে যাবে । যেমন টি হয়েছে হয়েছে পোল্টী ফামর্ের ক্ষেত্রে । যেমন আনেক ফামর্ খুব ভালো করছে, তেমন আনেক ফামর্ আবার বন্দ।
শুরু করতে মোট খরচ হবে ৭-৮ লক্ষ টাকা , বিস্তারিত হিসাব নিচে।
আমার কি লাভ তার হিসাব ও নিচে ।

আনেকের সাথে কথা বলেছেন , সবাই বলেছে ছাগল পালে পাগলে। বা ছাগলের রোগ বালাই বেশী হয়।
ঐ কথাগুলো কে ভূল প্রমানিত করতে বেশী কষ্ট করতে হবেনা । নিশ্চয় আপনার কোন আত্মীয় বা বন্দু বা পরিচত লোক বিদেশে থাকে, আমেরিকা, কানডা, সুজারলেন্ড, সৌদি, দুবাই , কাতার , কুয়ত, সিঙ্গাপুর বা মালেশিয়াতে থাকে,সে যেই দেশে থকুক না কেন , শুধু জিজ্ঞাসা করবেন কোন দেশের ছাগলের মাংস/ বা মাটন খান সবাই বলবে আষ্টেলিয়া।
আষ্টেলিয়া যদি ছাগল উৎপাদন করে সারা বিশ্বের চাহিদা মেটাতে পারে।
যেখানে আবহাওয়া আমাদের চাইতে আরো খরাপ, যখানে একজন শ্রমিকের এক মাসের বেতন কম পক্ষে ২০০০ ডলার, যা দিয়ে আমাদের দেশে এক জন শ্রমিকের ১৬-২০ মাসের বেতন দেওয়া যাবে । তাহলে আমরা কেন পারবনা। আমাদের দেশে তো সব খরচ ই কম।
তারপর ও ভাবছেন ৭-৮ লাক্ষ দিয়ে করব যদি না হয়?
আপনি শিক্ষিত বেকার যুবক , পরিশ্রম করতে আগ্রহী, সবাই কে দেখিয়ে দিতে চান পরিশ্রম করলে সবই সম্ভব ।
আমরা আপনাকে সুযোগ করে দিব, চলে আসুন আমাদের ফামর্ে ।
আপনার ছাগলের ঘর আমরা দিব, প্রজননের জন্য উন্নত পাঠা আমরা দিব, ঘাসের জন্য জমি দিব, শুধু ২০-৩০ টি ব্লেকবেঙ্গল ছাগল নিজে কিনে আগ্রহ ও নিষ্ঠার সাথে করুন, ২ বৎসর পর পূবের্ যারা বলেছে ছাগল পালে পাগলে, তারাই আপনার কাছে শিখতে আসবে কি ভাবে শুরু করা যায়।
নুতন উদ্যোক্তা যারা আমার সাথে একমত , এখন ই শুরু করতে চান, প্লিজ তারা হুরো না করে সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান হতে আগে ট্রেনিং নিন, প্রয়োজনে আমাদের ফামর্ে এক মাস থেকে সব বিস্তারিত জেনে নিন। আমাদের ফামর্ে ফ্রি ট্রেনিংয়ের ও ফ্রি থাকার ব্যাবস্থা আছে।
ফোন - ০০65 8328 0194
Viver - 0065 8328 0194
WhatsApp - 006583280194
Imo -006583280194
ট্রেনিংয়ের জন্য যোগ্যতা কি?
১) বাংলা পড়তে ও লিখতে জানতে হবে ।
২) ইন্টারনেটের ব্যবহার জানলে বেশী ভালো হয়।
৩) নিজ হাতে ১০০ ছাগলকে খাবার দেওয়া , ও পরিচযর্ায় করতে হবে, তখনি আপনি জেনে যাবেন আপনি পরবেন কি পারবেন না।
৪ লাখ ৫ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাবার কথা ভাবছেন ?
আপনার বন্দু বান্ধব বা আত্তীয় যারা বিদেশে আছে তাঁদের কাছথেকে সত্যিকথাটি জেনেনিন তারা বাৎসরিক কি পরিমান আয় করছেন , আর দিন রাত কি পারিমান অমানসিক পরিশ্রম তারা করছেন। প্রয়োজনে আমাদের আইডিয়াটা তাঁদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাঁদের মতামত নিন।
আপনারা যারা টাকা নিয়ে বসে আছেন ব্যবসা করার জন্য, কি ব্যাবসা করবেন খুজে পাচ্ছেন না , লাভ লোকসানের হিসেব মিলছে না তারা দয়াকরে একটু পড়ে দেখবেন।
প্রথমে অন্য ফামর্ হতে ১০০ দেশীয় জাতের প্রাপ্ত বয়স্ক ব্লেক বেঙ্গল (পিউর ব্রীড/ অরিজনাল জাতের ) ডো/ মহিলা/পাঠি ছাগল সংগ্রহ করতে হবে। যাতে আপনার ফামর্ে আনার কিছু দিনের মধ্যে গভর্বতী হতে শুরু করে।
ফামর্ হতে সংগ্রহ করলে দাম একটু বেশী হবে , কিন্তু সুস্থ সবল টিকা দেওয়া ও একই বয়সী পাবেন।
অন্য ফামর্ের দাম আমাদের জানা নেই,
আমাদের ফামর্ে প্রতি পিছ -৩৫০০ টাকা ।
সবর্ নিন্ম অডর্ার ২০ পিছ, কোন ডেলীভারী দেওয়া হয় না , আসার সময় পিকআপ নিয়ে অসতে হবে ।
আনেকে আবার পুরো আরটিকেল টি পরার পর বলবেন আপনি বিক্রি করছেন ৩৫০০ টাকা করে আর আমাকে বলেছেন ৭০০০ টাকা বিক্রি করতে এটা কেমন কথা। আমরা যেটা বিক্রি করছি তা হল পিউর ব্লেকবেঙ্গল ওজন ৯-১২ কেজি ; আর আপনি যেটি বিক্রি করবেন সেটি হল সংকর জাতের ।বিস্তারিত নিচে ।
ট্রেনিংয়ের করার পর ইচ্ছে করলে আপনি নিজে এলাকার বাজার হতে সঠিক জাত চিনে সুস্থ সবল দেখে ছাগল কিনতে পারেন , তাঁতে কিছুটা দাম কম লাগবে । কিন্তু মনে রাখবেন , অসুস্থ না হলে বা খুব বেশী টাকার প্রোয়োজন না হলে সাধারানত বাজারে কোন ব্যক্তি ডো/ মহিলা/পাঠি বিক্রী করে না । সেই ক্ষেত্রে বাজার হতে খুব সতকর্ার সাথে কিনতে হবে । কেনার পর ১৫ দিন এই ছাগল গুলো ফামর্ের ভেতর আনা যাবে না , ফামর্ হতে দুরে অন্য কোথা ও রাখতে হবে। ১৫ দিনে যদি কোন রোগের লক্ষন না দেখা দেয় তারপর ফামর্ে নিয়ে আসুন।
আর এদেরকে প্রজনন করার জন্য ১টি উন্নত জাতের পাঠা /বাক সংগ্রহ করতে হবে।
ছাগল বৎসরে ২ বার ২টি করে বাচ্চা দেয় তা হলে ১০০ ছাগল এক বৎসরে ৪০০ টি বাচ্চা দিবে,
তবে মনেরাখতে হবে যে কখনোই ফামর্ে একত্রে বাচ্চার সংখ্যা ছোট বড় মিলে ৬০-৭০ টির বেশী হবেনা , যেহেতু বিভিন্ন দিনে বাচ্চা গুলো জন্মগ্রহন করবে। যেগুলি ৫-৬ মাস হবে লট আকারে বৎসরে ১০-১২ বার বিক্রি করতে হবে ৩০-৪০ টি করে ।
উন্নত জাতের পাঠা দিয়ে প্রজনন করানো হলে সংকর জাতের বাচ্চা গুলো ৫-৬ মাস বয়সে ২০-২২ কেজী হবে।
যেভাবে আমরা দেশীয় গরু কে উন্নত জাতের ষাঁড় দিয়ে প্রজনন করিয়ে উন্নত জাতের বাছুর পাই।
২০ কেজী ওজনের ছাগল হতে ১৪ কেজী মাংস
হবে, ৫০০ টাকা কেজী হিসেবে ১৪ কেজী মাংসের দাম ৭০০০ টাকা ।
তাহলে ৪০০ বাচ্চা ৭০০০ টাকা হিসেবে ৪০০x৭০০0=2৮00000 (2৮ লক্ষ টাকা) বিক্রি হবে।
এ বার আসি বৎসরিক খরচ এ ,
একজন কর্মচারি মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে ১২০হাজার টাকা,
ঔষধ ৩০ হাজার টাকা,
প্রতিটি ব্লেকবেঙ্গল ছাগলের সুষম খাবার খরচ
মা ও বাচ্চা গড়ে ৩ টাকা ।
গড়ে দৈনিক খাবার খরচ-৪৫০ টাকা
বাৎসরিক খাবার খরচ ১৬৫ হাজার টাকা ।
( ঘাস বাদদিয়ে , কারন ঘাস নিজে উৎপাদন করে খাওয়াতে হবে )
টোটাল খরচ = ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা
মোট মুনাফা ২৮-৩.১৫=২৪.৭৫ বা ২৫ লক্ষ টাকা ।
আর একটি কথা মনে করিয়ে দেই , আপনি মূলধন হিসেবে যে ছোট ছাগল গুলো কিনছিলেন সে গুলো ছোট হতে বড় হওয়াতে মূলধনের পরিমাণ ও বেড়েছে।
এখন চিন্তা করছেন সবই তো বোঝলাম, তার পর আমি করলে যদি না হয় ভাই?
আপনার আইডিয়াটা ভাল আমার পছন্দ হয়েছে , কিন্তু করতে যে টাকা লাগবে তা তো নাই।
উপরের এই ২ সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা হেল্প করি।
তা হলে আপনি নিজে চলে আসুন আমাদের ফামর্ে, নিজে কিছু ছাগল কিনে শুরু করে দিন আমাদের সাথে , আমাদের ঘর, আমাদের ঘাস , আমাদের পাঠা সবই ব্যাবহার করতে পারবে, শুধু মাএ আপনার ডো/ মহিলা/পাঠি ছাগল গুলো আমাদের পদ্ধতিতে পালন করতে হবে , কিছু দিন পর আপনি যখন কনফিডেন্ট হয়ে যাবেন , আপনার বাড়িতে শুরু করে দিন আধুনিক ফামর্ ।
এখন তো সব ই বোঝলাম , বলেন তো ভাই আপনার মূল উদ্দেস্য টা কি , বাংঙ্গালী তো লাভের ব্যাবসা কারো সাথে শেয়ার করে না ।
মূল উদ্দেশ্য তে যাওয়ার আগে আপনার পালন করা ছাগল কোথায় বিক্রি করব তা জেনে নেই।
সরকারি হিসাব আনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংক্ষ্যা কম বেশী ১৬ কোটি।
প্রতিপরিবারে জনসংক্ষ্যা ৪-১০ জন।
আমরা যদি ১০ জন হিসেবে প্রতিটিপরিবার হিসাব করি তা হলে দেশে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার আছে।
১০ জনের প্রতিটিপরিবার যদি মাসে ১ কেজী করে খায় , তাহলে প্রতি মাসে বাজারের চাহিদা ১ কোটি ৬০ লক্ষ কেজী । বিয়ে, বৌভাত, সুন্নতে খৎনা , সামাজিক অনুষ্ঠান হোটেলের হিসাব না ই করলাম,
১যদি ও বাস্তবে ১ কেজীতে মাংসতে ১০ জন লোকের এক বেলা ও হবে না।
তাহলে প্রতিটি ছাগল হতে যদি ১৪ কেজি মাংস হয় ১ কোটি ৬০লাখ পরিবারের জন্য মাসিক চাহিদা = ১১ লক্ষ ৪২ হাজার ছাগল ।
তাহলে বাৎসরিক চহিদা ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ছাগল ।
প্রতিটি ফামর্ যদি বৎসরে ৪০০ করে ছাগল উৎপাদন করে ,বৎসরিক ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ছাগল উৎপাদন করতে ৩৪ হাজার ২৫০ টি
ফামর্ প্রয়োজন।
মূল উদ্দেস্য হল :
১) নুতন একটি শিল্প তৈরি করা ।
২) ৩৪ হাজার মালিক + ৩৪ হাজার কমর্চারী = ৬৮ হাজার লোকের কমর্সংস্থান তৈরি করা ।
আনেকে হয়ত ৬৮ হাজারের হিসাব কোথায় পেলাম চিন্তা করছেন সেটা উপরে আছে ।
৩) আর আমদের নিজে কিছু ইনকাম করা । তা ও বলেদিচ্ছি কি ভাবে , আপ
নার যদি ফামর্ থকে, নিশ্চই বৎসরে ২/৩বার বিক্রি করবেন, ১০০ ছাগল বজরে নিতে কম পক্ষে ১০০০ টাকা খরচ হবে, আর আপনি যদি আমাদের সাথে যুক্ত থাকেন , আর আমরা যদি আপনার ছাগল বড়িতে রেখে বিক্রি করে দিতে পারি , আর আপনার বাজারে নেওয়ার খরচ টা আমি চাই , মনে হয় বেশী অন্যায় হবে না।
তা হলে আমাদের বাৎসরিক আয় হবে ৩৮০০০x১০০০ =৩,৮০,০০০০০ মোট ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ।
যত ভালো ভাবে করেন না কেন , কিছু ভুল ত্রুটি থাকবেই , সবকিছু সামলে, প্রথম আয় শুরু হতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে ,
আমাদের ফামর্ সমন্ধে জানতে চান
www.facebook.com/boergoats.bd
/

৫ দিন পর্যন্ত ফল-সবজি টাটকা রাখার প্রযুক্তি


এ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা ছাড়া মাটির প্রকোষ্ঠে বাষ্প-তাপ ব্যবহার করে ফল ও সবজি শোধনের পর সংরক্ষণ করা যায়। এর আগে এক টাকা খরচে মাছ ও ফলে ফরমালিন পরীক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন এই তরুণ বিজ্ঞানী। দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যুৎহীন এলাকার মানুষের কথা ভেবে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান তিনি।
ফারুক বিন হোসেন বলেন, এ প্রযুক্তিতে মান ও গুণ ঠিক রেখে ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত ফল ও সবজি টাটকা রাখা যায়। তরুণ এই বিজ্ঞানী জানান, এটি হল বাস্প-তাপ দিয়ে সবজি ও ফল শোধন তথা সংরক্ষণ যন্ত্র। মাটি ছাড়াও কাঠ, টিন বা ইট দিয়েও এর মূল প্রকোষ্ঠ তৈরি করা যায়। এ যন্ত্রের তিনটি অংশ হল: বাস্প উৎপাদক যন্ত্র, সঞ্চালন নল ও নিয়ন্ত্রণ বাল্ব এবং শোধন বাক্স।

শোধন বাক্স: শোধন বাক্স বা প্রকোষ্ঠটি প্রয়োজন মতো ছোট বড় করে তৈরি করা যায়। ৪-৬ ঘনফুট আয়তনের প্রকোষ্ঠই একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। মাটি, কাঠ, টিন ও ইট-বালি-সিমেন্ট দিয়ে শোধন প্রকোষ্ঠ বা বাক্সের বাইরের স্তর তৈরি করা যায়। এরপর ভেতরের দিকে থাকে এক ইঞ্চি পুরুত্বের কর্কশিট। কর্কসিটটি একটি পাতলা রেক্সিন বা শক্ত পলিথিন শিট দিয়ে আবৃত করে দেয়া হয়, যাতে ভেতর থেকে তাপ এবং বাষ্প বাইরে যেতে না পারে।


বাষ্প উৎপাদন যন্ত্র: ঢাকনাসহ ভাত রান্না করার হাঁড়ি ও তাতে পরিমাণ মতো পানির প্রয়োজন হবে। হাঁড়ির ঢাকনার ওপরের দিকে একটি ছিদ্র থাকে, এ ছিদ্র পথে একটি বাল্বযুক্ত সঞ্চালন লাইন সংযোজন করে তা শোধন বক্সে ঢোকানো হয়, যাতে হাঁড়ির পানি থেকে উৎপাদিত বাষ্প শোধন বাক্সে স্থানান্তর করা যায়। এ বাস্প শোধন বাক্সে ঢুকে প্রকোষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তবে সঞ্চালন লাইনের একটি বাল্বের মাধ্যমে প্রয়োজন মতো শোধন বক্সের জলীয়বাষ্প ঢুকিয়ে তাপমাত্রা  নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

আম, লিচু, পেঁপে, কলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফল এবং টমেটো, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, রসুনসহ বিভিন্ন সবজি এই প্রকোষ্ঠে বিভিন্ন তাপমাত্রায় নির্ধারিত সময় শোধন করে তা কক্ষ তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে বা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে ১৫দিন থেকে এক মাস টাটকা রাখা যায়।

ইয়ামিন জানান, এভাবে সংরক্ষণ করলে আলু-পিঁয়াজের অঙ্কুরোদগম রোধ করে তিন মাস পর্যন্ত ভাল রাখা যায়। এছাড়া এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফল ও সবজির পচনের জন্য দায়ী ক্ষতিকারক ছত্রাক, ব্যাক্টেরিয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাসের কার্যক্ষমতা রোধ করা সম্ভব হয়।

যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি এবং কোল্ড স্টোরেজ নেই , সেসব এলাকার কৃষকরা  ফরমালিন ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই দীর্ঘদিন ফল ও সবজি এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে পারবেন। ইয়ামিন আরো জানান, দুই বছর আগে তিনি এর উদ্ভাবন কাজ শুরু করেন। এখন শুধু কৃষকদের মাঝে কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষা।

মাটি দিয়ে তৈরি শোধন বক্সটি দেখতে অনেকটাই ডিপ ফ্রিজের মতো  বলে অনেকেই একে মাটির ফ্রিজ বলেও আখ্যা দিয়েছেন, বলেন ইয়ামিন।

কবুতর পালনের প্রাথমিক ধারণা


ভূমিকা:

পৃথিবীতে প্রায় ১২০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় ২০ প্রকার কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের সর্বত্র এসকল কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শষ্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পূর্বে কবুতরকে সংবাদ বাহক, খেলার পাখি হিসাবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, সমৃদ্ধি, শোভাবর্ধনকারী এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হচেছ। এদের সুষ্ট পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়।

কবুতরের জাতঃ

মাংশ উৎপাদনকারী
রেসিং
ফ্লাইং
শোভাবর্ধনকারী
দেশী
ক) কিং- সাদা, কালো,
সিলভার, হলুদ ও নীল
ক) রেসিং
হামার
ক) বার্মিংহাম রোলারক) মালটেজক) সিরাজী
খ) কারনিউখ) হর্স ম্যান খ) ফ্লাইং টিপলার/ ফ্লাইং হোমারখ) ক্যারিয়ার খ) জালালী
গ) মনডেইন- সুইস, ফ্রেন্স
গ)থাম্বলারগ) হোয়াইট ফাউন্টেলগ) বাংলা
ঘ) আমেরিকান জায়ান্ট হোমার
ঘ) কিউমুলেটঘ)টিম্বালারঘ) গিরিবাজ
ঙ) রান্ট
 ঙ) হর্স ম্যানঙ) পোটারস্‌ঙ) লোটন



 চ) নান্সচ) বোম্বাইছ) গোবিন্দ
দেশী এবং মাংশ উৎপাদনকারী কবুতর বাংলাদেশের সর্বত্র পালন হয়ে থাকে যা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ করে তবে রেসিং, ফ্লাইং এবং শোভাবর্ধনকারী কবুতর শখের বসে বা বানিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করে থাকে।

কবুতর পালনের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীঃ

প্রাপ্ত বয়ষ্ক কবুতরের দৈহিক ওজন (জাতভেদে) ২৫০-৮০০ গ্রাম, প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার সময়কাল ৫-৬ মাস, কবুতর প্রতিবার ১ জোড়া ডিম দেয় (প্রথম ডিম দেয়ার প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর দ্বিতীয় ডিম দেয়), বাচ্চা উৎপাদনের বয়সকাল ৫-৬ বৎসর, ৪-৫ দিনে বাচ্চার চোখ ফোটে, ১৭-১৯ দিন বাচ্চা ফোটার জন্য ডিমে তা দেয়, ১০-১২ দিনে পালক গজায়, ২৮-৩০ দিন বাজারজাতকরণের বয়স, জীবনকাল ১৫-২০ বৎসর।

কবুতর পালনের সুবিধাঃ

  • বিনিয়োগ কম, প্রতিপালন অত্যন্ত সহজ এবং সংক্ষিপ্ত প্রজননকাল
  • বেকার যুবক এবং দুঃস্থ মহিলাদের আয় বর্ধনের উৎস হতে পারে
  • অল্প জায়গায় এবং অল্প খাদ্যে পালন করা যায় এবং রোগ বালাই কম
  • মাংস মুস্বাদু পুষ্টিকর, সহজে পাচ্য এবং প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পুরণের উৎস
  • মল জৈবসার হিসাবে ব্যবহার করা যায়

কবুতর পালন


কবুতরের বাসস্থানঃ

উত্তম নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং বায়ুচলাচল আছে এরূপ উঁচু এবং বালুময় মাটিতে কবুতরের ঘর করতে হবে, যা খামারীর আবাসস্থল থেকে ২০০-৩০০ ফুট দুরে এবং দক্ষিণমূখী হওয়া উচিত। মাটি থেকে ঘরের উচ্চতা ২০-২৪ ফুট এবং খাচার উচ্চতা ৮-১০ফুট হওয়া ভাল। একটি খামারের জন্য ৩০-৪০ জোড়া কবুতর আদর্শ। এরূপ ঘরের মাপ হবে ৯ ফুট ৮.৫ ফুট। কবুতরের খোপ ২-৩ তলা বিশিষ্ট করা যায়। এরূপ খোপের আয়তন প্রতিজোড়া ছোট আকারের কবুতরের জন্য ৩০ সে. মি.x ৩০ সে.মি.x ২০ সে.মি. এবং বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০ সে. মি.x ৫৫ সে.মি. x৩০ সে.মি.। ঘর স্বল্প খরচে সহজে তৈরী এবং স্থানান্তরযোগ্য যা কাঠ, টিন, বাঁশ, খড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা যায়। খামারের ভিতরে নরম, শুষ্ক খড়-কুটা রেখে দিলে তারা ঠোঁটে করে নিয়ে নিজেরাই বাসা তৈরী করে নেয়। ডিম পাড়ার বাসা তৈরীর জন্য ধানের খড়, শুকনো ঘাস, কচি ঘাসের ডগাজাতীয় দ্রব্যাদি উত্তম। খোপের ভিতর মাটির সরা বসিয়ে রাখলে কবুতর সরাতে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটায়।

খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ

বাচ্চা ফোটার ৪-৫ দিন পর কবুতরের বাচ্চার চোখ ফোটে। ফলে বাচ্চাগুলো কোন দানাদার খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনা। এসময় স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর তাদের পাকস্থলী (ক্রপ) থেকে ঘন ক্রীম বা দধির মত নিঃসরণ করে যাকে কবুতরের দুধ বলে। এ দুধ অধিক আমিষ, চর্বি এবং খনিজ লবণ সমৃদ্ধ যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে পারে। বাচ্চাগুলো নিজে খাদ্য গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর উভয়ে দানাদার খাদ্যের সাথে দুধ মিশিয়ে ঠোঁট দিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ায়।
  • কবুতরের জন্য তৈরীকৃত খাদ্য শর্করা, আমিষ, খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, চর্বি এবং খনিজ লবণ সমপন্ন সুষম খাদ্য হতে হবে। কবুতর ম্যাশ বা পাউডার খাদ্যের তুলনায় দানাদার জাতীয় খাদ্য বেশি পছন্দ করে।
  • ছোট আকারের কবুতরের জন্য ২০-৩০ গ্রাম, মাঝারী আকারের জন্য ৩৫-৫০ গ্রাম এবং বড় আকারের জন্য ৫০-৬০ গ্রাম খাদ্য প্রতিদিন দিতে হবে। দানাদার জাতীয় খাদ্যের মধ্যে গম, ধান, ভূট্টা, সরগম, ওট শতকরা ৬০ ভাগ এবং লেগুমিনাস বা ডাল জাতীয় খাদ্যের মধ্যে সরিষা, খেসারী, মাটিকলাই শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ সরবরাহ করতে হবে।
  • কবুতরের ভিটামিন সররাহের জন্য বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন ছাড়া সবুজ শাকসবজি, কচি ঘাস সরবরাহ করা প্রয়োজন।
  • প্রতিদিন ২ বার খাদ্য সরবরাহ করা ভাল। মাঝে মাঝে পাথর, ইটের কণা (গ্রিট) এবং কাঁচা হলুদের টুকরা দেয়া উচিৎ কারণ এ গ্রিট পাকস্থলীতে খাবার ভাঙতে এবং হলুদ পাকস্থলী পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
  • কবুতরের ডিম দেয়ার সময় গ্রিট মিশ্রণ বা খনিজ মিশ্রণ, ডিম এবং ডিমের খোসা তৈরী এবং ভাল হ্যাচাবিলিটির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এই খনিজ মিশ্রণ বোন মিল (সিদ্ধ) ৫%, ঝিনুক ৪০%, লাইম স্টোন ৩৫%, গ্রাউন্ড লাইম স্টোন ৫%, লবণ ৪%, চারকোল ১০% এবং শিয়ান রেড ১% তৈরী করতে হবে  ।

পানি সরবরাহঃ

প্রতিদিন গভীর বা খাদ জাতীয় পানির পাত্র ভালভাবে পরিষ্কার করে ৩ বার পরিষ্কার পরিচছন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা উচিত। দুই সপ্তাহ পর পর পটাশ মিশ্রিত পানি সরবরাহ করলে পাকস্থলী বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাঃ
খামার হতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার এবং রোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ন।
১। কবুতর উঠানোর আগে খামারসহ ব্যবহার্য্য সকল যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রথমে পানি দিয়ে পানির সাথে কার্যকরী জীবানুনাশক (০.২-০.৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড বা আয়োডিন দ্রবণ) মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
২। সুস্থ্য সবল কবুতর সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে বাহ্যিক পরজীবি নিধনের জন্য ০.৫% ম্যালাথিয়ন দ্রবণে কবুতরকে গোসল করিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কবুতরের মুখ এই দ্রবণে ডুবানো যাবে না। হাত দিয়ে মাথায় লাগিয়ে দিতে হবে। অন্তঃপরজীবি প্রতিরোধের জন্য কৃমিনাশক ঔষধ সেবন করাতে হবে।
৩। কবুতরের খোপ, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ সরবরাহের পাত্র, পানির পাত্র ও গোসল করার পাত্র এবং কবুতর বসার স্ট্যান্ড নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। জীবাণুমুক্ত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
৪। খামারে মানুষের এবং বন্য পাখি ও ইঁদুর জাতীয় প্রাণী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিবার খামারে প্রবেশ করার পূর্বে এবং খামার হতে বাহির হওয়ার সময় হাত ও পা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৫। কোন কবুতর অসুস্থ হলে দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে। অসুস্থ বা মৃত কবুতর এর রোগের কারণ জেনে অন্যান্য জীবিত কবুতরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
টিকা প্রদানঃ
খামারে রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কবুতরের প্রজননকালীন সময়ে প্যারেন্ট কবুতর গুলোকে রাণীক্ষেত রোগের মৃত টিকা প্রয়োগ করা উত্তম। টিকা প্রয়োগের কমপক্ষে ৩ সপ্তাহ পর বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিম সংগ্রহ করতে হবে। তবে বাচ্চা কবুতর উড়তে শেখার সাথে সাথেও টিকা প্রয়োগ করা যায়। জীবিত বা মৃত উভয় টিকাই প্রয়োগ করা যায়। জীবিত টিকা চোখে এবং মৃত টিকা চামড়ার নীচে বা মাংসপেশীতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম টিকা (জীবিত) প্রয়োগের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় বা বুস্টার ডোজ দিতে হবে।


কবুতরের রোগ বালাইঃ

বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু দ্বারা কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত খাদ্য এবং পানির মাধ্যমে জীবাণু কবুতরের দেহে প্রবেশ করে। তাছাড়া অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডাজনিত পীড়নের কারণেও অনেক সময় কবুতর দূর্বল ও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। কবুতরের সংক্রামক রোগ এবং ছত্রাকজনিত রোগ এছাড়া ভিটামিন বা খনিজ লবণের অভাব জনিত রোগ, বদহজম জনিত সমস্যা, গেঁটেবাত, অন্তঃপরজীবি যেমন কৃমি এবং বাহ্যিক পরজীবি যেমনঃ মাছি, উকুন ইত্যাদি দ্বারাও কবুতর আক্রান্ত হতে পারে।
রাণীক্ষেতঃ এ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কবুতর থেকে সুস্থ কবুতরে এ রোগের জীবাণুর বিস্তার ঘটে। এ রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ১০ ভাগ। সবুজ ডায়রিয়া এবং প্যারালাইসিস ইত্যাদি এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। কবুতরকে জীবিত বা মৃত টিকা প্রয়োগ এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
ইনক্লুশন বডি হেপাটাইটিসঅসুস্থ কবুতরের বমির সাহায্যে এ সংক্রামক রোগ খামারের অন্যান্য সুস্থ কবুতরে বিস্তার লাভ করে। এ রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৪০-১০০ ভাগ। দূর্গন্ধযুক্ত বাদামী বা সবুজ ডায়রিয়া, ঝিমানো, খাবারে অনীহা, শুকিয়ে যাওয়া, বমি করা এবং হঠাৎ মারা যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এ রোগের কোন চিকিৎসা না থাকার দরুণ আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে ফেলাই রোগের বিস্তার রোধ এবং প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
বসন্তঃ সাধারণত শরীরের পালকবিহীন অংশ যেমন- চোখ বা মুখের চারিদিক, পা ইত্যাদি জায়গায় এ রোগের ফোষ্কা বা গুটি দেখা যায়। আক্রান্ত কবুতরের চোখের পাতা ও চোখ ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়, (conjunctivitis) এবং পানি পড়ে। আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে উৎপনড়ব হওয়া ফোষ্কা বা গুটিগুলোকে প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার করে আয়োডিন যৌগ যেমনপভিতে সপ বা আয়োসান দিয়ে মুছে দিতে হবে। কোন চিকিৎসা না থাকার দরুণ খামারের জৈবনিরাপত্তা রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
সালমোনেলোসিসঃ আক্রান্ত পিতামাতা থেকে ডিমের মাধ্যমে এবং খাবার, পানি, খামারে ব্যবহৃত বিভিনড়ব যন্ত্রপাতি, কর্মরত শ্রমিক ও আগত অন্যান্য লোকজন, খাদ্য সরবরাহের গাড়ি, বন্যপ্রাণী যেমন ইদুঁর ইত্যাদির মাধ্যমে খামারে এ সংক্রমক রোগের প্রাদূর্ভাব ঘটে। শতকরা ৫-৫০ বা তারও বেশী কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত কবুতরের ডায়রিয়া, শুকিয়ে যাওয়া, পা এবং পাখায় প্যারালাইসিস এবং ডিম পাড়ার সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্ত কবুতর খামার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এসপারজিলোসিসঃ আক্রান্ত কবুতর থেকে শ্বাস প্রশ্বাস মাধ্যমে সুস্থ কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। এ ছত্রাকজনিত রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। শ্বাস কষ্ট, ঝিমানো, শুকিয়ে যাওয়া, খাবারের প্রতি অনীহা, ওজন কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন পিপাসা পাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। কার্যকরী ছত্রাক বিরোধী ঔষধ যেমন Amphotericine দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত কবুতর খামার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং খামারের জৈবনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
রক্ত আমাশয়ঃ বিভিন্ন প্রজাতির প্রটোজোয়া দ্বারা এ রোগ হতে পারে। সংক্রামিত খাবার, পানি বা লিটার থেকে মুখের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। রক্ত মিশ্রিত ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্ধা এবং ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের প্রধান লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত কবুতর কার্যকরী জীবাণুনাশক দিয়ে শেড ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং কঠোর জৈবনিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।
ক্যাঙ্কারঃ আক্রান্ত বয়ষ্ক পিতামাতা কবুতর থেকে দুধের মাধ্যমে বাচ্চায় প্রটোজোয়া এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্ত জীবিত কবুতর সারাজীবন এ রোগের জীবাণু বহন করে। মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। আক্রান্ত  কবুতর অস্থির থাকে, পাখা উশকু-খুশকু হয়ে যায়, খাদ্য গ্রহণ কমে যায় এবং ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়। আক্রান্ত কবুতরের মুখের চারিদিকে সবুজাভ বা হলুদ লালা লেগে থাকে। আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। এই রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
কবুতর পালনে আর্থিক লাভঃ
৩০ জোড়া উন্নত বা সৌখিন জাতের কবুতর পালনে প্রাথমিকভাবে ১,৯৫,২০০ /- টাকা বিনিয়োগ করে এক বৎসরে ১,০৫,৩০০ /- টাকা লাভ করা যায়। তবে ৩০ জোড়া দেশী জাতের কবুতরের পালনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫,৪০০ /- টাকা বিনিয়োগ করে এক বৎসরে ৪,৬০০/- টাকা লাভ করা যায়। পরবর্তীতে স্থায়ী খরচের (ঘর, পানি পাত্র, বালতি, মগ, কবুতরের খোপ, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ সরবরাহের পাত্র, ও গোসল করার পাত্র এবং কবুতর বসার স্ট্যান্ড) দরকার হয় না । ফলে পরবর্তীতে লাভ বেশী হয়।

টবে ফলুন করুন ১০০ পাউন্ড আলু

শখের বশে আমরা অনেকেই টবে বা ছাদে কাঁচামরিচ,ধনেপাতা, টমেটো, পুদিনা ইত্যাদি ছোট সবজি লাগাই। কিন্তু শখের বশে আলু লাগানোর শখ অনেকেই করি না। কাজটিকে আমি ঠিক সাহস বলবো না, তবে পণ্ডশ্রম হবে ভেবে কিংবা বাগানে মাটিতে লাগানোর মত আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে না এই ভেবে অনেকেই টবে আলু চাষ করতে চান না। তাদের জন্য আছে কনটেইনারে বা ব্যারেলে ( আমাদের দেশে ব্যারেল বা কাঠের পিপা পাওয়া কঠিন এই ক্ষেত্রে আপনি রঙের খালি কনটেইনার ব্যাবহার করতে পারেন) বাগান পদ্ধতি। কনটেইনারে একটু বড় পরিসরে বাগান করা যায়। এতে সৌখিন বাগানিদের শখের খোরাক এবং আশানুরুপ ফলন দুই ই মিলবে।

সুবিধা
কনটেইনারে বাগান করা অনেক সহজ। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাগান করে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যায়। সারের অপচয় হয় না। আগাছা , ছত্রাক এবং পোকা মাকড় থেকে দূরে থাকা যায়। ছাদে, বারান্দায় বা যে কোন জায়গায় স্থাপন করা যায়।কনটেইনারে আলু চাষ করলে তা আহরণ করা যায় খুবই সহজে। গর্ত করে বা কোদাল দিয়ে খনন করে ফসল নষ্ট হবে না । শুধুমাত্র কনটেইনারে উপুড় করে ফেললেই হল।

টব

কনটেইনার নির্বাচন ও প্রস্ততি
৪০-৫০ লিটার বা ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার যে কোন রঙের, পানির কনটেইনার, পানির বালতি বা যে কোন ফুড গ্রেডের কনটেইনার বাগান করার জন্য ব্যাবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত পানি নির্গমনের জন্য প্রতিটি কনটেইনারে নিচে ৩/৪ ইঞ্চি সাইজের ৫ -৬ টি ছিদ্র করে নিতে হবে। কনটেইনারে আলু চাষের জন্য ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা থাকা খুবই জরুরি। তারপর কনটেইনার টি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

আলুর চাষ
বীজ সংগ্রহ ও চারা রোপণ
আলুর বীজ দুইভাবে সংগ্রহ করা যেতে পারে। বীজ থেকে এবং আলুর কাটিং থেকে। বীজের চারা সরাসরি নার্সারি থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে আর কাটিং চারা পেতে পারেন বিগত বছরের আলু থেকে। পুরনো আলু থেকে ছোট ছোট অঙ্কুর বের হয়। সেই অঙ্কুর গুলোকে আলু সমেত ১-২ ইঞ্চি কিউব করে কেটে অঙ্কুরটি ঊর্ধ্ব মুখী করে একটি ডিমের কেসে রাখতে হবে। । অঙ্কুর গুলোকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
এবার কন্টেইনারের নিচের দিকে আনুমানিক ৬ ইঞ্চি পরিমাণ স্থান ঝুরঝুরে কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরতে হবে, আপনি চাইলে কয়লা,নারকেলের ছোবড়া বা কচুরিপানা ব্যাবহার করতে পারেন। এতে করে মাটিতে আদ্রতা বজায় থাকবে এবং মাটি থাকবে ঝুরঝুরে। অঙ্কুর গুলো নিরাপদ দূরত্বে রেখে রোপণ করুন। অঙ্কুরের নিচের অংশটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। আর বীজ থেকে গাছ উৎপাদন করলে বীজ গুলোকে মাটির উপর ছিটিয়ে দিন। মাটিগুলো একটু ভেজা রাখা ভালো তবে খেয়াল রাখবেন আলুগুলো যেন পচে না যায়।

আলু গাছ
অতিরিক্ত মাটি যোগ করুন
গাছগুলো ৬-৮ ইঞ্চি পর্যন্ত দীর্ঘ হলে গাছ গুলোর ৩ ভাগের ২ অংশ আরো এক লেয়ার কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে কন্টেইনারের উপর পর্যন্ত গাছগুলোকে ধাপে ধাপে কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়ে পর্যাপ্ত পানি সেচন করতে হবে ( মানে গাছ যত বড় হবে, মাটির লেয়ারও তত উঁচুতে উঠবে) ।


ফসল তোলার পালা
প্রায় ১০ সপ্তাহ পর আলু গাছের ফুলগুলো হলুদ হওয়া শুরু করলে আলু তোলার জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে পড়বে। প্রথমে উপরের আলুগুলো সাবধানে বের করে আনতে হবে, এরপর পুরো উলটে ফেলে সমস্ত মাটি বের করে ফেলতে হবে। মাটি থেকে আলুগুলো আলাদা করে ফেলতে হবে।

ব্যারেল বা কনটেইনারে আলু চাষের আরো কিছু টিপস
প্রথম বছর ফসল তোলার পর কিছু আলু বীজ হিসেবে পরবর্তী বছরের জন্য রেখে দেয়া যেতে পারে। শিম গাছের ঝোপ আলু চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
মাটির পরিবর্তে কাঠের গুড়া ব্যাবহার করতে পারেন। এই টিপস গুলোতে সফল না হলে অন্য কনটেইনারে বীজে উৎপাদিত গাছ লাগিয়েও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
সূত্র: সৌখিনবিডিডটকম

পুকুরে মাগুর মাছ চাষের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপত্র

মাগুর মাছ চাষে সুবিধা


ছোট বড় সব ধরনের জলাশয়ে শিং ও মাগুর মাছ চাষ করা যায়। এ সব মাছ বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেয় বলে চাষে ঝুঁকি কম। অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়। তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা বেশি। বাজারমূল্য ভাল। সুষ্ঠু খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাগুর মাছ ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনে উন্নীত করা যায়।

পুকুরের আয়তন 

  • ব্যবস্থাপনা সুবিধার জন্য পুকুর আয়তকার হতে হবে
  • পুকুরের আয়তন ২০-৫০ শতাংশের মধ্যে হলে ব্যবস্থাপনা করতে সুবিধা হয়
  • তবে পুকুরের আয়তন ১০০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না
  • পুকুরের গড় গভীরতা ৪.৫-৫.৫ ফুট হলে ভাল হয়
নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী: পুকুর প্রস্তুতির গুরত্বিপূর্ণ কাজ হলো নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করা বা ঘের দেয়া। পুকুরের চার পাড়ে বর্ষাকালের পানির লেভেলের অন্তত ২ফুট উপরে শক্ত করে অবশ্যই ঘের দিতে হবে। ঘের না দিলে বৃষ্টির সময় কানকো দিয়ে পরিভ্রমন করে কৈ মাছ পাড় বেয়ে পুকুরের বাইরে চলে যেতে পারে। সাধারণত কৈ মাছ পানিতে ১.৫ ফুট পর্যন্ত লাফ দিতে পারে। কিন্তু শুকনো স্থানে লাফ দিতে পারে না। তাই ১ ফুট থেকে ১.৫ ফুট উচু পর্যন্ত ঘের দিলেও চলে। তবে সাপ ব্যাঙ প্রভৃতি শত্র“র হাত থেকে রক্ষার জন্য ঘের কমপক্ষে ২.৫ উচু দেয়া বাঞ্চনীয় এখানে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, কি দিয়ে ঘের তৈরী করতে হবে। টিন, ঘন ফ্যাসের নাইলন জাল বা বাশের বানা দিয়ে ঘের তৈরী করা যায়। কেস ক্যালচারের প−াস্টিক নেট এর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। স্থায়ী ভাবে করতে চাইলে ইটের ঘাখুনি দিয়েও ঘের দেয়া যায়। ঘের দেয়ার সময় সর্তকতার সাথে লক্ষ্য রাথতে হবে যেন নীচের অংশে কোন ফাকা না থাকে এবং ঘের যেন মজবতু ও টেকসই হয়। ঘের দেয়ার ব্যাপারে কোন গাফিলতি করলে পরবতী পর্যার্  য়ে চাষি চরম ভাবে আথির্ক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। 

ঘের তৈরীর সামগ্রী: নাইলনের জাল, বাঁশের খুটি/গাছের ডালের খুটি, সুতলি, কোদাল ইত্যাদি।

বেষ্টনী তৈরী : পুকুর পাড়ের উপর চর্তুদিকে ৬ ইঞ্চি গভীর করে পরিখা খনন করতে হবে। পরে এই গর্তের মধ্যে ৮-১০ ফুট পর পর বাঁশের খুটি/গাছের ডাল শক্ত করে পুঁতে দিতে হবে। এরপর নাইলনের নেট দ্ধারা পুকুর পাড়ের চর্তুদিকে ঘিরে ফেলতে হবে। পরিখার ভিতর নেট ডুকিয়ে পরিখা খনের মাটি দিয়ে নেটকে শক্ত করে মাটির সংঙ্গে আটকে দিতে হবে। কিছুুকছু খামাওে কম দামের টিন দিয়েও বেষ্টনী তৈরী করতে দেখা গেছে। নিম্নমানের টিন ৩ থেকে ৪ বৎসর ব্যবহার করা যায়। 

বেষ্টনী তৈরীর সময়: এখন প্রশ্ন করা যেতে পাওে কখন বেষ্টনী তৈরী করতে হবে। সাধারণত পুকুর শুকানোর পর বেষ্টনী তৈরী করতে হবে। পুকুরে পানি না থাকলে ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রাণী পুকুরে থাকে না। পানি ভর্তি করার পর পরই পানিতে বসবাসকারী অন্যান্য প্রাণী পুকুরে প্রবেশ করে। তাই পুকুর সেচ দেয়ার পর পরই বেষ্টনী তৈরী করে পরে পুকুর প্রস্তুতির অন্যান্য কাজ করতে হবে।

বেষ্টনী পর্যবেক্ষণ: বেষ্টনী পর্যবেক্ষণ প্রতিদিনের রুটিন কাজ হতে হবে। কারণ বাতাস, বন্য প্রাণি ইত্যাদি বেষ্টনী উঠিয়ে ফেলতে পারে। বাণিজ্যিক খামারে বেশী ঘনত্বে মাছ চাষ করা হয় বিধায় কুকুর ও শিয়ালকে বড় বড় মাছ ধরে খেতে দেখা গেছে। তাই এ সকল প্রাণী বেষ্টনীর ক্ষতি করতে পারে।
স্বচ্ছতা ও ঘোলাত্ব : পুকুরের পানি ঘোলা হলে কার্যকর সূর্যালোক পানির নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য অর্থাৎ উদ্ভিদ-প−্যাঙ্কটনের উৎপাদন কমে যায়। আবার পানির উপরের স্তরে অতিরিক্ত উদ্ভিদ-প−্যাঙ্কটন উৎপাদনের ফলেও পানির স্বচ্ছতা কমে যেতে পারে। এতে অক্সিজেনের অভাবে মাছের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। পানির স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটার হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়। ঘোলা পানি মাছের খাদ্য চাহিদাকে প্রভাবিত করে। ঘোলা পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন ধরনের কণা মাছের ফুলকায় আটকে থেকে ফুলকা বন্ধ করে দেয়। এতে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ফলে মাছের খাদ্য চাহিদা হ্রাস পায়।
  • প্রতি শতকে ১.০-১.৫ কেজি হারে জিপসাম প্রয়োগ করে পানির ঘোলাত্ব দূর করা যায়।
  • পুকুরের কোণায় খড়ের ছোট ছোট আটি রেখে দিলেও এক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া য়ায়।
পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে করণীয়:
  • পানির উপরিভাগে ঢেউ সৃষ্টি করে বা পানি আন্দোলিত করে 
  • সাঁতার কেটে বা বাঁশ পিটিয়ে বা হাত দিয়ে পানি ছিটিয়ে 
  • পাম্প দিয়ে নতুন পানি সরবরাহ করে। 
পুকুর প্রস্তুতি: পুকুর পোনা মাছ মজুদ করার পূর্বে একজন মৎস্য চাষির নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে পুকুরটি মাছ চাষ উপযোগী করে প্রস্তুত করে নেয়া। প্রথমে পুকুরকে সেচের মাধ্যমে শুকিয়ে ফেলা প্রয়োজন। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট গভীরতার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম রোটেনন পাউডার পানিতে গুলিয়ে সমভাবে পুকুরে ছিটিয়ে দিয়ে সব ধরনের মাছ অপসারণ করা যায়। এরপর পুকুরের তলায় শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে চুন ছিটিয়ে দিয়ে ৪-৫ দিন রোদে শুকানোর পর ২/৩ ফুট পানি ভর্তি করা উচিত। তবে চুন ছাড়াও জিওলাইট (প্রতি শতকে ১-২ কেজি) পুকুর প্রস্তুতির সময় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি তথা প্রাকৃতিক খাদ্যের সংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। পুকুর প্রস্তুতির শেষ ধাপে সার প্রয়োগ করা হয়। চুন প্রয়োগের ৩-৪ দিন (হক, ২০০৬) বা ৭-১০ দিন (মৎস্য অধিদপ্তর, ২০০২) পর নিম্নোক্ত মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হয়।


 সার শতাংশ প্রতি সারের মাত্রা
 গোবর অথবা ৫-৭ কেজি
 কমপোস্ট অথবা৮-১০ কেজি 
 হাঁসমুরগির বিষ্ঠ৩-৫ কেজি 
 ইউরিয়া১০০-১৫০ গ্রাম 
 টিএসপি৫০-৭৫ গ্রাম 
 এমপি সার ২০ গ্রাম 
নোট :
  • মেঘলা অথবা বৃষ্টির দিনে সার প্রয়োগ করা ঠিক নয়
  •  অতিরিক্ত সার কখনই ব্যবহার করা ঠিক নয়

প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যবেক্ষণ  
  • পুকুরে মাছের পোনা মজুদের আগে প্রাকৃতিক খাদ্য সঠিক পরিমাণে তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে
  • পুকুরে পানির রং দেখে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়
  • সবুজাভ, লালচে বা বাদামী সবুজ রংয়ের পানি মাছ চাষের জন্য ভাল
  • তবে হালকা সবুজ, ঘন সবুজ বা তামাটে লাল বা পরিষ্কার রং এর পানি মাছ চাষের জন্য ভাল নয়
  • তাই সূর্য উঠার পর (সকাল ১১-১২ টার দিকে) নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো ক  
  • সেকিডিস্ক দিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা  
  • সেকিডিস্ক, লোহা বা টিন দ্বারা তৈরি একটি থালা৷ এর উপরিভাগে সাদা কালো রংয়ের ডোরা কাটা দাগ থাকে
  • এর গোড়া থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লাল নাইলনের সুতা, এরপর ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত সবুজ নাইলনের সুতা এবং তারপর থেকে হাতে ধরা পর্যন্ত ৩.৫ থেকে ৪ ফুট সাদা নাইলনের সুতা দিয়ে বাঁধা থাকে
  • পানিতে লাল সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পর থালার সাদা অংশ দেখা না গেলে বুঝতে হবে পুকুরে অতিরিক্ত প্রাকৃতিক খাদ্য আছে৷ এ অবস্থায় পোনা ছাড়া, সার ও খাদ্য প্রয়োগ কোনোটাই করা যাবে না
  • পানিতে সবুজ সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পর থালার সাদা অংশ দেখা না গেলে বুঝতে হবে পুকুরে পরিমিত প্রাকৃতিক খাদ্য আছে৷ এ অবস্থায় পোনা ছাড়া যাবে তবে নিয়ম ও পরিমাণমত সার ও খাদ্য প্রয়োগ করে যেতে হবে
  • পানিতে সবুজ সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পরও থালার সাদা অংশ দেখা গেলে বুঝতে হবে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য কম আছে৷ এ অবস্থায় আরো সার প্রয়োগ করতে হবে 
  • হাতের মাধ্যমে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা  
  • নিজের হাত কুনুই পর্যন্ত পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হাতের তালু পরীক্ষা করতে হবে
  • পানির রং বাদামী সবুজ কিংবা লালচে সবুজ কিংবা হালকা সবুজ থাকলে এবং একই সাথে হাতের তালু দেখা না গেলে বুঝতে হবে যে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ ঠিক আছে 
  • গ্লাস দিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা





  • পুকুর প্রস্তুতের সময় পানিতে সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসে পানি তুলতে হবে
  • গ্লাস প্রতি পানিতে যদি ৫-১০টি পরিমাণ ক্ষুদ্র প্রাণীকণা দেখা যায় তবে বুঝতে হবে যে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ ঠিক আছে



পানির বিষাক্ততা পরীক্ষা 
  • পুকুরে পোনা ছাড়ার ১-২ দিন পূর্বে অবশ্যই পানির বিষক্রিয়া পরীক্ষা করতে হবে
  • বিষাক্ততা পরীক্ষার জন্য পুকুরে একটি হাপা টাঙ্গিয়ে তার মধ্যে ১০-১৫টি পোনা ছেড়ে ১ দিন পর্যন্ত দেখতে হবে
  • যদি পোনা মারা না যায় তবে বুঝতে হবে যে পানির বিষক্রিয়া কেটে গেছে, এ অবস্থায় পোনা ছাড়া যাবে
  • যদি পোনা মারা যায় তাহলে বুঝতে হবে যে পানিতে এখনও বিষক্রিয়া আছে অতএব পুকুরের পানি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে

চুন প্রয়োগ 
  • চুন প্রয়োগের ফলে মাটি ও পানির অম্লতা দূর হয়, সারের কার্যকারিতা বাড়ে এবং পানির ঘোলাত্ব দূর হয়
  • পুকুর শুকানোর ২-৩ দিন পর বা বিষ প্রয়োগের ৭-৮ দিন পর নিম্নলিখিত হারে চুন ব্যবহার করতে হবে

  মাটির পিএইচ
  পাথুরে চুন (কেজি/শতাংশ)
  কলি চুন (কেজি/শতাংশ)
  পোড়া চুন (কেজি/শতাংশ)
  ৩-৫
  ৬
  ঌ
  ১২
  ৫-৬
  ৪
  ৬
  ৮
  ৬-৭
  ২
  ৩
  ৪
  • পি এইচ মাপা সম্ভব না হলে গড়ে প্রতি শতাংশে ১-২ কেজি হারে চুন ব্যবহার করতে পারেন
  • পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ড্রাম বা বড় চাড়ির মধ্যে পানিতে প্রয়োগের আগের রাতে ভিজিয়ে রাখতে হবে
  • এরপর চুন গুলিয়ে তা পাড়সহ সারা পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে
  • পুকুর শুকানো সম্ভব হলে চুন গুঁড়া করে সরাসরি পুকুরের তলদেশে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে

চুন প্রয়োগের সময় অবশ্যই নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলতে হবে- 
  • চুন ব্যবহারের সময় নাক মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে নেয়া উচিত
  • পুকুরে চুন প্রয়োগের পদ্ধতি
    চুন
     বাতাসের অনুকূলে ছিটানো উচিত
  • কড়া রোদে চুন বেশি কার্যকর তাই এরকম সময়ে চুন প্রয়োগ করা উচিত
  • পুকুরে মাছ থাকা অবস্থায় চুন দিলে তা অবশ্যই পানিতে গুলে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে
  • প্লাস্টিকের বালতিতে চুন গুলানো যাবে নামাটির চাড়ি বা ড্রামে চুন গুলাতে হবে
  • চুন অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে থাকতে হবে

পুকুরের পানি ভরাট করা  
  • পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের ২-৩ দিন পর পুকুরে পানি সরবরাহ করতে হবে
  • পানি সরবরাহ কালে যেন কোন রাক্ষুসে মাছ এবং অবাঞ্চিত মাছ ঢুকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে  
  • পুকুর প্রস্তুতির সময়ে সার প্রয়োগ  
  • পুকুরে পানি ভরাটের ৩-৪ দিনের মধ্যে সার প্রয়োগ করতে হবে
  • পুকুরে পানির পুষ্টি যেমন - প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগ করতে হয়
  • জৈবসার হিসেবে গোবর, হাঁসমুরগির বিষ্ঠা ও কম্পোষ্ট এবং অজৈব সার হিসেবে ইউরিয়া, টিএসপি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়  
সার প্রয়োগ পদ্ধতি ও মাত্রা
সার প্রয়োগ
  • পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উত্পাদন এবং মাছের ভাল বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগ করা হয়
  • পুকুর যদি শুকনো হয় তাহলে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জৈব সার সমানভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে
  • পানি ভরাটের পর অজৈব সার পানিতে গুলে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে
  • পুকুর যদি আগেই পানি ভর্তি থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জৈব ও অজৈব সার একত্রে পাত্রের মধ্যে তিন গুন পানিতে গুলিয়ে ১২-২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে
  • এরপর গুলানো মিশ্র সার সমানভাবে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে  
------------------------------------------------
সার দেয়ার - দিন পর যখন পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হবে তখন পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের নিরাপদ মাত্রা রক্ষা করতে নিয়মিত জিওলাইট এবং গ্যাসের উপস্থিতিতে 'গ্যাসোনেক্স প্লাস' ব্যবহার করলে চাষি উপকৃত হবেন। প্রতি মাসে একবার 'গ্যাসোনেক্স প্লাস' ব্যবহারে মৎস্য চাষি নিরাপদে থাকতে পারেন 

মাগুর মাছের দেহ স্বাভাবিক না থাকলে বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায় না। এ কারণে পুকুরে 'প্রোবায়োটিক্স' (অ্যাকোয়া ম্যাজিক) ব্যবহারে পুকুরের তলদেশের পরিবেশ এবং মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

-------------------------------------------------
    রাক্ষুসে মাছ ও আগাছা দূর করতে বিষ প্রয়োগ পদ্ধতি:
    অনেক সময়ে অনেক এলাকায় পুকুর পুরোপুরি শুকানো সম্ভব হয় না তখন যেকোনো এক ধরনের বিষ প্রয়োগ করে রাক্ষুষে ও আমাছা দূর করা যেতে পারে
 ঔষধের নাম শতাংশ প্রতি ঔষধ প্রয়োগ মাত্রাপানির গভীরতাঔষধ প্রয়োগ পদ্ধতি  বিষাক্ততার মেয়াদকাল
রোটেনন
ঌ.১% শক্তি সম্পন্ন রোটেনন
৭% শক্তি সম্পন্ন রোটেনন

১৬-১৮ গ্রাম অথবা ৩-৪ ম্যাচ বাক্স পরিমাণ

১৮-২৫ গ্রাম অথবা ৪-৫ ম্যাচ বাক্স পরিম
  ১ ফুট এর বেশি না ১ ফুট এর বেশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ পাউডার বালতি কিংবা পাত্রে নিয়ে আস্তে আস্তে পানি মিশিয়ে প্রথমে কাই তৈরি করতে হবে এরপর প্রস্তুতকৃত কাইগুলো তিন ভাগে ভাগ করতে হবে এর এক ভাগ দিয়ে ছোট ছোট বল বানাতে হবে এবং বাকি দুইভাগ অতিরিক্ত পানিতে মিশিয়ে তরল করতে হবে ছোট ছোট বলগুলো পুকুরের পানিতে বিভিন্ন স্থানে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে একই সাথে তরল রোটেননও সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে জাল টেনে পুকুরের পানি ওলট পালট করে দিতে হবে ২০-২৫ মিনিট পর অনাকাঙ্ক্ষিত মাছ ভাসতে শুরু করলে জাল টেনে তুলে ফেলতে  বিষ ছিটানোর পর ৭ দিন পর্যন্ত পুকুরের পানি বিষাক্ত থাকে
  তামাকের গুঁড়া  ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম  ১ ফুট এর বেশি ন তামাকের গুঁড়া এক রাত বালতির মধ্যে পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর রৌদ্রজ্জ্বল দিনে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে  বিষ ছিটানোর পর ৭-১০ দিন পর্যন্ত পুকুরের পানি বিষাক্ত থাকে
  চা বীজের খৈল  ১ কেজি  ১ ফুট এর বেশি না প্রয়োজনীয় খৈল বালতির মধ্যে ৩-৪ গুন পানিতে ভালভাবে গুলিয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দিনে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে  বিষ ছিটানোর পর ৩-৪ দিন পর্যন্ত পুকুরের পানি বিষাক্ত থাকে

চুন ও সার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা: 
পুকুরে পিএইচ সমন্বয় করার জন্য চুন ও সার প্রয়োগ হয়ে থাকে। পুকুরে পিএইচ কম হলে অম্লত্ব কমে ফলে প্রয়োগ করতে হয় চুন। আর পিএইচ বেশী হলে অম্লত্ব বেড়ে যায় ফলে প্রয়োগ করতে হয় রাসায়নিক সার।আবার প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির উদ্দ্যেশেই পুকুরে সার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

পানির pH নির্ণয়ঃ
pH হচ্ছে এসিড/অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের পরিমাপক যা 0 থেকে 14 মাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত, তবে 7 দ্বারা নিরপেক্ষ মান নির্দেশ করা হয় ।
pH মান 7-এর বেশী হলে ক্ষারত্বের মান নির্দেশ করে, আর 7-এর কম হলে এসিড/অম্লত্বের মান
নির্দেশ করে ।
পানির pH মানের দ্রুত উঠানামা মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর ।
মাছ চাষে পানির আদর্শ pH মাত্রা 7 থেকে 9
পানির pH মাপার পদ্ধতিঃ
১. pH মিটার ।
২. pH পেপার সহ চাকতি ।
* পানিতে এসিড/অম্লত্ব অর্থাৎ pH ৭ এর কম হলে শতাংশ প্রতি ১-২ কেজি চুন দিতে হবে ।
* পানিতে ক্ষার হলে অর্থাৎ pH এর মান ৯ এর বেশী হলে রাসায়নিক সার দিতে হবে ।
* pH 7-এর বেশী হলে ক্ষার ।
* pH 7-এর কম হলে এসিড/অম্লত্ব ।
------------------------------------------------
পানির পিএইচ মাছের খাদ্য চাহিদার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অম্ল পানি মাছ চাষের জন্য ভাল নয়। এ ধরনের পানিতে মাছের ক্ষুধা হ্রাস পায় ও খাদ্য চাহিদা কমে যায়। ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও উৎপাদন হ্রাস পায়। কোন জলাশয়ে পানির পিএইচ ৯.০- এর বেশি হলে এবং তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে মাছের খাদ্য চাহিদা কমে যায় ও বৃদ্ধি শুন্যের কোঠায় দাঁড়ায়। পিএইচ মাত্রা ৭.০ থেকে ৮-৫ এর মধ্যে থাকলে মাছের খাদ্য চাহিদা বেশি থাকে ও উৎপাদন বেশি হয়।
-----------------------------------------------
মাগুর মাছের পোনা:

পোনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা 
  • পুকুরে পোনা মজুদের আগে কিংবা পোনা ক্রয়ের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেয়া আবশ্যক
  • এতে করে একদিকে যেমন পোনার বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পাবে তেমনি উত্পাদনও বৃদ্ধি পাবে এবং রোগবালাই হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে
  • নিচে ভালো পোনা চেনার উপায়গুলো তুলে ধরা হলো-
পোনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ভালো/খারাপ পোনা চেনার উপায় 
  পর্যবেক্ষণের বিষয়  ভালো পোনা  খারাপ পোনা
  পোনার চলাফেরা  চঞ্চলভাবে ছলাচল করে  স্থির থাকে কিংবা অলসভাবে চলাচল করে
  পিচ্ছিল পদার্থ  শরীর পিচ্ছিল থাকে  শরীর খসখসে থাকে
গোলাকার পাত্রে রেখে স্রোত সৃষ্টি করলে  স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটে  পাত্রের মাঝখানে জমা হয়
  শরীরের অবস্থা  ফুলকা এবং দেহে কোন দাগ থাকে না  দেহ, পাখনা ও ফুলকায় লাল দাগ থাকতে পারে
মাগুর মাছের পোনা পরিবহন পদ্ধতি: কৈ, শিং ও মাগুর মাছের পোনা পরিবহন রুইজাতীয় পোনা পরিবহনের মত হলেও একটু ভিন্নতা রয়েছে। এসব মাছ কাটাযুক্ত হওয়ায় বড় আকারের পোনা অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। শিং ও মাগুরের ছোট পোনা অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহন করাই উত্তম।

সাধারণতঃ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ৬৬ সেমি.  x ৪৬ সেমি. আকারের পলিথিন ব্যাগে পোনা পরিবহন করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২টি করে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করাই উত্তম। কোন কারণে যদি একটি ব্যাগ ছিদ্র হয়ে যায় তবে দ্বিতীয়টি পানি, অক্সিজেন ও পোনা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

২৫/৩০ দিনের মাগুর ৩০০-৪০০ গ্রাম (১৫/১৬ শত) পোনা ১৫-১৮ ঘণ্টার দুরত্বের রাস্তা পরিবহন করা যায়। কৈ, শিং ও মাগুর পোনা ৪-৬ ঘন্টার ভ্রমণে ১ কেজি- ১.৫ কেজি পর্যন্ত প্রতি ব্যাগে পরিবহন করা যায়। পরিবহনকালে পলিথিন ব্যাগ যাতে ছিদ্র হতে না পারে সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। সম্ভব হলে পলিথিন ব্যাগ বস্তায় ভরে পরিবহন করতে হবে।

অন্যান্য পদ্ধতি :  উপরোক্ত পদ্ধতি ছাড়াও নিচে লিখিত পদ্ধতিতে পোনা পরিবহন করা যায়। 
১. ইনসুলেটেড ট্যাংকে এরেটরের সাহায্যে অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পোনা পরিবহন করা যায়। 
২. ক্যানভাস ট্যাংকের মাধ্যমে পিক-আপ বা অন্য কোন গাড়ী ব্যবহার করে এরেটর সেট করে পোনা পরিবহন করা যায়।
৩. আজকাল ভ্যান গাড়ীতে মোটা পলিথিন কাগজ নিয়ে ক্যানভাস ট্যাংক তৈরি করেও পোনা পরিবহন করতে দেখা যায়।

পোনা পরিবহন করে খামারে নেওয়ার পর পুকুরে ছাড়ার পূর্বে পোনা শোধন করে নিতে হবে এবং এতে পোনা সুস্থ থাকবে এবং রোগ বালাই এর সম্ভাবনা কমে যাবে। পোনা নিম্নরূপেভাবে শোধন করা যাবে :

পোনা শোধন পদ্ধতি:

পোনা শোধন 
  • পোনা মজুদের সময় যাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো রোগজীবাণু পোনার সাথে পুকুরে প্রবেশ না করে সেজন্য পোনা ছাড়ার আগেই এ ব্যবস্থা নেয়া দরকার 
  • পোনা শোধনে বিভিন্ন উপকরণ যেমন বড় বালতি, পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (ডাক্তারি পটাশ) বা লবণ, হাত জাল ও চা চামচ দরকার হয় 

পোনা শোধন পদ্ধতি  
পোনা শোধন পদ্ধতি


  • মাছের পোনা শোধনের জন্য একটি বালতির মধ্যে ১০ লিটার পানিতে ১ চা চামচ পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশাতে হবে
  •  অথবা একটি বালতির মধ্যে ১০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম বা দুই মুঠ পরিমাণ লবণ মিশাতে হবে
  • এ মিশ্রণে পোনাগুলোকে ৩০ সেকেন্ড গোসল করানোর পর পুকুরে ছাড়তে হবে
  • ১০ লিটার পরিমাণ একটি মিশ্রণে একবারে ৩০০-৫০০টি পোনা শোধন করা যায়
  • একই দ্রবণে ৪-৫ বার পোনা শোধন করার পর প্রয়োজন হলে আবার নতুন করে দ্রবণ তৈরি করতে হবে।

ডাক্তারি পটাশ বা লবণ পানি দিয়ে পোনা শোধন ছাড়াও এটিন্টবায়েটিক দিয়ে পোনাকে পুকুরে ছাড়ার সাথে সাথেই রোগমুক্ত বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, যেমন-

পুকুরে পোনা ছাড়ার পর Oxysaytin, Lenocide ইত্যাদি গ্রাম পজেটিভ, গ্রাম নেগেটিভ ব্যকটেরিয়া, ভাইরাস, ফ্যাংগাস, এ্যালজি ও প্রোটজোয়াজণিত মারাত্নক ক্ষতিকর রোগজীবাণুগুলোকে প্রতিরোধ ও নির্মূল করার জন্য ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া য়ায়। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এমন ঔষধ পাওয়া যায়।
Lenocide লোরী/নাসারিাইড (তরল): ব্যবহারবিধি- ৫০০ মিলি/ ১০০ শতাংশ (যখন পানিরগভীরতা ২-৩ ফুট) ১০০০ সিসি /১০০ শতাংশ (যখন পানির গভীরতা ৫-৬ ফুট।
 পোনা অভ্যস্থকরণ
  • পোনা ছাড়ার পূর্বে পুকুরের পানির সাথে পোনাগুলোকে খাপ খাইয়ে নেয়ার পদ্ধতিই হচ্ছে অভ্যস্থকরণ
  • পুকুরে পোনা ছাড়ার পরপরই নতুন পরিবেশে পোনা যেন শক না খায় সেজন্য আগে থেকেই পোনাগুলোকে নতুন পানির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে
  • এ পদ্ধতি গ্রহণ না করলে পোনার মৃত্যু হার বেড়ে যাবে এমনকি সমস্ত পোনা মারা যেতে পারে 

পদ্ধতি 

অভ্যস্তকরণ পদ্ধতি
  • যে পাত্রে  বা ব্যাগে পোনা পরিবহন করা হয় সে পাত্রটি / ব্যাগটি পুকুরের পানিতে ৩০ মিনিট ভাসিয়ে রেখে তাপমাত্রার সমতা আনতে হয়
  • উভয় পানির তাপমাত্রা সমান হলে পাত্রটি পুকুরের দিকে কাত করে ধরে বাইরে থেকে ভেতরের দিকে স্রোতের ব্যবস্থা করতে হবে
  •  এ অবস্থায় সুস্থ সবল পোনাগুলো স্রোতের বিপরীতে ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যাবে 

পোনা ছাড়া 
  • প্রথমে পোনাসহ পাত্র বা প্লাটিস্টিকের ব্যগগুলোকে ৩০মিনিট পর্যন্ত পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে রাখতে হবে, তারপর যখন পাতিলের বা ব্যাগের পানির তাপমাত্রা এবং পুকুরের পানির তাপমাত্রা প্রায় সমান হবে, তখন পোনাগুলোকে লবন পানিতে গোসল করাতে হবে। এরপর সেগুলো আর একটি পানিভর্তি পাতিলে নিয়ে পুকুরে পোনা ছাড়তে হবে।
  •  পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার আগে পরিবেশের অবস্থা বিবেচনা করতে হবে
  • সাধারণত মৃদু ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পোনা ছাড়া ভালো
  • সকাল অথবা বিকাল সময়টা বেছে নেয়া ভালো
  • মেঘলা ও ভ্যাপসা আবহওয়ায় পোনা ছাড়া উচিত নয়

তথ্যসূত্রঃ এফটিইপি, ১ঌঌ৮; মজিদ ও আলম, ২০০১; করিম, ২০০২ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ২০০২ ৷


পোনা মজুদের/ছাড়ার পরে করণীয় 
  • পোনা বেঁচে থাকা পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব;
  • পোনা মজুদের পর ৩০দিন পর পর শতাংশ প্রতি ১৫০ গ্রাম হারে জিওলাইট অথবা ২৫০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করতে হবে;
  • পুকুরে পোনা ছাড়ার - ঘণ্টা পর পুকুর পাড়ের কাছাকাছি পোনার চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করতে হবে;
  • প্রতি ১৫ দিনে একবার প্রোবায়োটিক ব্যবহার করলে মাছের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে  পানির পরিবেশ ভাল থাকবে;
  • প্রতি ১৫দিন অন্তর পানির গুণাগুণ যেমন পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন, পিএইচ, অ্যামোনিয়া ও মোট ক্ষারকত্ব নির্ণয় করা আবশ্যক;
  • এছাড়া প্রতিদিন ভোরে পুকুর পর্যবেক্ষণ করে কোনো পোনা মারা গেল কিনা দেখতে হবে;
  • পোনা মারা গেলে একই জাতের সমসংখ্যক পোনা আবার পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে;
  •  মাগুর মাছের দেহ স্বাভাবিক না থাকলে বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায় না। এ কারণে পুকুরে 'প্রোবায়োটিক্স' (অ্যাকোয়া ম্যাজিক) ব্যবহারে পুকুরের তলদেশের পরিবেশ এবং মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে
  • মাছে যদি কোন রোগ বালাই নাও থাকে তারপরও এক মাস পরপর শতাংশে ১ কেজি চুন (১ কেজি চুনে ৩০ লিটার পানি) সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে এবং আধা কেজি লবন সারের মত ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • অক্সিজেনের অভাব হলে শতকে ২০০ গ্রাম জিওলাইট সারের মত ছিটিয়ে দিতে হবে।
    চাষ চলাকালে সার প্রয়োগ পদ্ধতি
  • চাষ চলাকালে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ ঠিক রাখতে নিয়মিত সার ব্যবহার করতে হবে
  • পুকুরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জৈব  অজৈব সার একত্রে প্রয়োগ করতে হয়
  • নির্দিষ্ট পরিমাণ সার পাত্রের মধ্যে তিনগুন পানিতে গুলিয়ে ১২-২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে
  • এরপর গুলানো মিশ্র সার সমানভাবে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে
  • পুকুরে চাষ চলাকালে প্রতিদিন সারের নমুনা মাত্রা নিম্নে দেওয়া হলো


  সার                          প্রতি শতাংশে
  গোবর অথবা                         ২০০-২৫০ গ্রাম
  কম্পোষ্ট অথবা                         ৩০০-৪০০ গ্রাম
  হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা                         ১৫০-২০০ গ্রাম
  ইউরিয়া                         ৪-৫ গ্রাম
  টিএসপি                        ৩ গ্রাম
  চুন                        ২০০ গ্রাম (মাসিক)


সার প্রয়োগে সতর্কতা 
  • রৌদ্রউজ্জ্বল দিনে সকাল ১০-১১ টার মধ্যে গুলানো সার পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে
  • মেঘলা অথবা বৃষ্টির দিনে সার প্রয়োগ করা যাবে না।
সম্পুরক খাদ্য 
  • পুকুরে যখন মাছের ওজন বাড়তে থাকে তখন প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে অতিরিক্ত যে খাদ্য প্রয়োগ করতে হয় তাই সম্পূরক খাদ্য
  • মজুদ ঘনত্ব বেশি হলে প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের খাদ্য চাহিদা পুরণ করতে পারে না তাই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হয়
খাদ্যের উপকরণ
 দেশী মাগুরের সম্পূরক খাদ্য হিসাবে চালের কুড়া, গমের ভুসি, সরিষা বা তিলের খৈল, ফিসমিল, চিটাগুড়, রক্তের গুঁড়া, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির নাড়ি ভুঁড়ি, শামুক-ঝিনুকের মাংস ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়
খাদ্য তৈরি পদ্ধতি
  • চালের কুড়া ২০ ভাগ, গমের ভুসি ১৫ ভাগ, খৈল ২০ ভাগ, ফিসমিল ৪০ ভাগ ও চিটাগুড় ৫ ভাগ একসাথে ভালভাবে মিশিয়ে খাদ্য তৈরি করা যেতে পারে 
  • অথবা খৈল ৩৫ ভাগ, চালের কুড়া ৩৫ ভাগ এবং রক্তের গুঁড়া ৩০ ভাগ হারে মিশিয়ে খাবার তৈরি করা যেতে পারে 
  • খাদ্য বলগুলো প্রয়োজনে রৌদ্রে একটু শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে 
  • এরপর খাদ্যদানীতে করে নির্দ্দিষ্ট সময়ে তা প্রয়োগ করতে হবে 
  • এছাড়া পরিমিত পরিমণে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির নাড়ি ভুঁড়ি, শামুক-ঝিনুকের মাংস খাওয়ানো যেতে পারে 
পুকুরে খাদ্য প্রয়োগ করার পদ্ধতি
নিম্নরূপ উপায়ে পুকুরে খাদ্য প্রয়োগ করা যেতে পারে:
  • সমস্ত পুকুরে সমান ভাবে ছিটিয়ে প্রয়োগ করা
  • নির্ধারিত স্থানে প্রয়োগ করা
  • খাদ্যদানীতে প্রয়োগ করা। খাদ্যদানীতে খাদ্য সরবরাহ করলে খরচ বাঁচে এবং অপচয় কম হয়, দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে ৩ ফুট আয়তনের বাঁশের ফ্রেমে মশারির জাল লাগিয়ে এ খাদ্যদানী তৈরি করা যায়। খাদ্যদানী পুকুরের পানির উপরিভাগ থেকে ১ ফুট নিচে স্থাপন করতে হবে এবং পাড় থেকে ১-২ মিটার দুরে স্থাপন করতে হবে৩০ শতাংশের পুকুরে ২টি, ৬০ শতাংশের পুকুরে ৪টি, এই হারে খাদ্যদানী স্থাপন করা যেতে পারে 
  • খাবার একটি ছিদ্র যুক্ত ব্যাগে ভরে পানিতে ঝুলিয়ে দেয়া।
  • খাদ্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে পরিমিত পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে
  • পানি অতিরিক্ত সবুজ বা দূষিত হয়ে পড়লে বা বৃষ্টি হলে খাদ্য প্রয়োগ কমাতে হবে
পুকুরে খাদ্য প্রয়োগ মাত্রা
মাছের খাদ্য গ্রহণ মাত্রা নির্ভর করে পানির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলীর অনুকুল অবস্থার ওপর। তাপমাত্রা বাড়লে মাছের বিপাকীয় কার্যক্রমের হার বেড়ে যায়। ফলে খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায়। একইভাবে পানির তাপমাত্রা কমে গেলে খাদ্য চাহিদাও কমে যায়। পানির তাপমাত্রা ১০ ডি. সে. এর বেশি হলে খাদ্য গ্রহণ মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায়, একই ভাবে তাপমাত্রা ১০ ডি. সে. কমে গেলে মাছের খাদ্য গ্রহণ হার অর্ধেকে নেমে য়ায়। পনির পিএইচ ৭-৮.৫০ ও পানিতে দ্রুবিভূত অক্সিজেনের মাত্রা বাড়লে মাছের খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে পিএইচ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাবার কারণে খাদ্য গ্রহণ কমে যায়। এ ছাড়াও মাছ ছোট অবস্থায় তুলনামূলক বেশি খাবার গ্রহণ করে থাকে।

পুকুরে শিং মাছের পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে সন্ধ্যার পর অর্থাৎ ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে পুকুরে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয় একই নিয়মে। এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ছোট থাকা অবস্থায় রাতে খাবার খেলেও ৩ ইঞ্চির মত সাইজ হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোর বেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯/১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে। শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে। পুকুরে বেশি পরিমাণ খাবার দিলে পানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা শিং মাছ চাষের একটি বড় অন্তরায়।


শিং ও মাগুর মাছের দৈহিক ওজনের সাথে খাদ্য প্রয়োগের মাত্রার সম্পর্ক:

গড় ওজন (গ্রাম)                        দৈনিক খাদ্যের পরিমান (%)
১-৩                                           ১৫-২০
৪-১০                                          ১২-১৫
১১-৫০                                        ৮-১০
৫১-১০০                                      ৫-৭
>১০১                                         ৩-৫

যেমন: ৪০ শতাংশের একটি পুকুরে যদি প্রতি শতাংশে ১৫০টি ঘনত্বে প্রতিটি ৩ গ্রাম ওজনের ২০০০০টি মাগুর মাছ থাকে তাহলে মাছের মোট দৈহিক ওজন হবে ৩ গ্রাম × ২০০০০ = ৬০ কেজি। ২০% হারে খাদ্য প্রয়োগ করলে দৈনিক ১২ কেজি খাদ্য উক্ত পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে।



৩৫শতক পুকুরে ২০০০০টি পোনার ৪ মাসের সম্ভাব্য মোট খাদ্য:

সময়গড় ওজনমোট খাদ্য (কেজি)
১ম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ১০% হারেগড় ওজন ১ গ্রাম ধরে২০
২য় ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৫% হারেগড় ওজন ৮ গ্রাম ধরে৮০
৩য় ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৪% হারেগড় ওজন ১৫ গ্রাম ধরে১২০
৪র্থ ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৪% হারেগড় ওজন ২৫ গ্রাম ধরে২০০
৫ম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৪% হারেগড় ওজন ৩৫ গ্রাম ধরে২৮০
৬ষ্ঠ ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৪% হারেগড় ওজন ৪৫ গ্রাম ধরে২৭০
৭ম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ৫৫ গ্রাম ধরে৩৩০
৮ম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ৬৫ গ্রাম ধরে৩৯০
ঌম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ৭৫ গ্রাম ধরে৪৫০
১০ম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ৮৫ গ্রাম ধরে৫১০
১১তম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ৯৫ গ্রাম ধরে৫৭০
১২তম ১০ দিন গড় দৈহিক ওজনের ৩% হারেগড় ওজন ১০৫ গ্রাম ধরে৬৩০
মোট
৩৮৫০

সাধারণত পুকুরে দৈনিক ২ বার খাদ্য পরিবেশন করতে হয়। মোট খাবারের এক চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেক সকালে (১০-১১টা) এবং অর্ধেক থেকে তিন চতুর্থাংশ বিকেলে (৩-৪ টা) দেওয়া ভাল। শুরুর দিকে মোট মাছের ওজনের ৫-১০ শতাংশ এবং পরের দিকে  মোট মাছের ওজনের ৩-৪ শতাংশ হারে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করতে হবে (মৎস্য অধিদপ্তর, ২০০২ এবং সিদ্দিকী ও চৌধুরী, ১৯৯৬)।

সম্পুরক খাদ্য তৈরী:
মৎস্য অধিদপ্তর (২০০২) অনুসারে  চালের কুঁড়া ৪০ ভাগ, সরিষা বা অন্যান্য তৈলবীজের খৈল ৩০ ভাগ এবং ফিশমিল বা শুঁটকী ৩০ ভাগ একত্রে মিশিয়ে মাগুর বা শিং মাছের খাদ্য তৈরি করা যায়। আগের দিন চালের কুঁড়া ও খৈল সমপরিমাণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন তার সাথে ফিশমিল মিশিয়ে গোলাকার বল আকারের খাদ্য তৈরি করে সহজেই সরবরাহ করা যেতে পারে। 

অথবা-
একমাত্র খৈল বাদে অন্য উপাদানগুলো উলি্লখিত অনুপাতে বেশি পরিমাণে মিশ্রিত করে একটি মিশ্রণ তৈরি করে রাখতে হবে। অতঃপর প্রতিদিন মাছের দৈহিক ওজন অনুযায়ী যে পরিমাণ খাদ্য হবে তার তিনভাগ তৈরিকৃত মিশ্রণ থেকে এবং অন্য একভাগ খৈল পানিতে ৬-১০ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তার মধ্যে উক্ত মিশ্রণ মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করে রাখতে হবে।

এছাড়া, শিং ও মাগুর মাছের জন্য নিম্নহারে (Composition) খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে স্বল্প মূল্যে কিন্তু ভালমানের খাদ্য প্রস্ত্তত করা যেতে পারে।



ক্রমিক নংউপকরণের নামশতকরা হার
1ফিশমিল20
2সোয়বিন চূর্ণ 8
3অটোকুড়া   30
4  ভুট্টাচূর্ণ       5
5গমের ভুসি12
6চিটাগুড়/রাব5
7সরিষার খৈল20
8ভিটামিন প্রিমিক্স১গ্রাম/কেজি

অথবা



ক্রমিক নংউপকরণের নামখাদ্যের শতকরা হারপ্রোটিন শতকরা হারমোট প্রোটিন (%)
1ফিশমিল405020
2সয়াবিন চূর্ন5301.5
3চালের কুড়া25102.5
6আটা/ময়দা5170.85
7সরিষার খৈল25256.25
8ভিটামিন প্রিমিক্স১গ্রাম/কেজি

মোট (কেজি)
100
31.1
সরিষার খৈল খাদ্য প্রস্ত্ততের ২৪ ঘন্টা পূর্বেই পরিমাণমত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে অত:পর অন্য সব উপকরণের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে খাদ্য প্রস্ত্ততের সময় পানি এমনভাবে মিশাতে হবে যেন খাবার অনেকটা শুকনা খাবারের মত হয়। তা ছাড়া শামুক ও ঝিনুকের মাংস মাগুরের অত্যন্ত প্রিয় খাবার। এগুলোও অবাধে খাওয়ানো যায়।

বিভিন্ন খাদ্য উপকরণের পুষ্টি মান


উপাদানআমিষশর্করাচর্বি
চালের কুঁড়া১১.৮৪৪.৪২১০.৪৫
গমের ভুসিঁ১৪.৫৭৬৬.৩৬৪.৪৩
সরিষার খৈল৩০.৩৩৩৪.৩৮১৩.৪৪
তিলের খৈল২৭.২৫৪.৯৭১৩.১৮
ফিসমিল-এ গ্রেড৫৬.৬১৩.৭৪১১.২২
ব্লাড মিল৬৩.১৫১৫.৫৯০.৫৬
সার প্রয়োগ:
দাশ (১৯৯৭) অনুসারে পোনা ছাড়ার পর প্রতি মাসে শতাংশ প্রতি ৩৫-৪০ কেজি গোবর ও সমান অনুপাতে ৬০০ গ্রাম হারে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে। রাসায়নিক সার মাটির সাথে মিশিয়ে দলা করে প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

শিং ও মাগুর মাছ চাষে অন্যান্য ঝুঁকি
শিং ও মাগুর মাছ চাষে ঋতুভিত্তিক কিছু ঝুঁকি থাকে। তাই সঠিক ব্যবস্থাপনা না নিলে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি অনেক সময় সমস্ত চাষ ব্যবস্থা হুমকির সম্মূখে পড়তে পারে।
ক) বর্ষাকালীন ঝুঁকি ঃ বর্ষাকালীন অতিবৃষ্টি বা বন্যায় সমস্ত মাছ ভেসে যেতে পারে। হালকা গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে পরিপক্ব মাগুর পুকুরের পাড় বেয়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে। এ কারণে পুকুরের পাড়ের চারিদিকে বাঁশের বানা বা বেড়া অথবা প্পাস্টিক নেটের সাহায্যে ১.৫ ফুট উচু করে বেষ্টনি দেয়া যেতে পারে।

খ) শুষ্ক মৌসুমের ঝুঁকি : শুষ্ক মৌসুমে পুকুরের পানি শুকিয়ে পানির গভীরতা কমে যেতে পারে। এতে পানির তাপমাত্রা বেড়ে পানিতে দ্রবিভুত অক্সিজেন স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য পানি সেচের মাধ্যমে পুকুরের পনির গভীরতা বাড়াতে হবে।

গ) শীতকালীন ঝুঁকি : শীতে (১৫০ সে. তাপের নিচে) শিং ও মাগুর মাছ চাষে রোগের প্রাদূর্ভাব বেশি হয় সে জন্য শীতের ২-৩ মাস শিং ও মাগুর মাছ চাষ না করাই ভাল। তবে এ সময়ে মাছ বা পোনা সংরক্ষণের জন্য প্রতি দিন ভোরে ডিপটিউব-ওয়েল এর পানি দিয়ে পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা যায়।

ঘ) ক্ষতিকর গ্যাস : খাদ্যের অবশিষ্টাংশ এবং মাছের মলমূত্রের কারণে পুকুরের তলদেশে ক্ষতিকর গ্যাস জমে বুদবুদের সৃষ্টি করতে পারে এবং পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। পুকুরের তলদেশে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস অপসারণের জন্য ২-৩ দিন পর পর দুপুরের সময় পানিতে নেমে তলদেশ আলোড়িত করার ব্যবস্থা করতে হবে। কাজটি হররা টেনেও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে শতকে ২৫০ গ্রাম হারে চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। জিওলাইট প্রয়োগেও ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

ঙ) মাছের স্বাভাবিক রং না আসা : অধিক ঘনত্বে শিং ও মাগুর মাছ চাষ করলে মাছের গায়ের স্বাভাবিক রং আসে না। এতে ভোক্তার কাছে মাছের গ্রহণ যোগ্যতা কমে যায়, ফলে বাজার দর কম পাওয়া যায়। এ সমস্যা দুর করার জন্য মাছ বাজারজাত করার কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্বে পুকুরের ১/৪ অংশে কচুরী পানা অথবা টোপা পানা দেয়া যেতে পারে। তবে বাজারজাত করার পর কচুরী পানা অপসারণ করে ফেলে দিতে হবে।

মাগুর মাছের রোগ ও প্রতিকার-
সাধারণতঃ মাগুর মাছ চাষের পুকুরে তেমন কোন রোগব্যাধি হয় না। তবে শীতে এবং পানির পরিবেশ দূষণে গায়ে সাদা দাগ বা ক্ষত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। প্রথমেই পুকুরের পানির পরিবেশ উন্নয়নের জন্য শতকে ২৫০ গ্রাম হারে চুন দিতে হবে অথবা ৫০০-৭৫০ গ্রাম হারে জিওলাইট প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং পুকুরের পানি আংশিক পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে। চাষিকে মনে রাখতে হবে যে মাছের রোগের চিকিৎসা করার চেয়ে মাছে যাহাতে রোগ না হয সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই উত্তম। আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসাবে শীতের শুরুতে একই হারে পুকুরে চুন ও লবণ প্রয়োগ করলে শীতকালে এ রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

পুকুরের পরিবেশ: মাছের বিচরণভূমি পুকুরের পানি ও তলদেশের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখা গেলে চাষিরা রোগ-ব্যাধি থেকে মাছকে সহজে রক্ষা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানির পিএইচ রক্ষা, দূষিত গ্যাস থেকে মুক্তি, পুকুরে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারলে লাভবান হবে। পুকুরে নিয়মিত জিওলাইট ও প্রোবায়োটিক্সের সমন্বয় অ্যাকোয়া ম্যাজিক (Aqua Magic) অথবা প্রোবায়োটিক্স পন্ড প্লাস (Pond Plus) ব্যবহারে নিশ্চিতভাবেই উপকৃত হতে পারে। ##এছাড়া,  আমাদের দেশে কৈ, শিং ও মাগুর চাষে ক্ষতরোগ দেখা গেছে এবং কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সমস্যা হলেও পুকুর প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পাদন করার পর চাষকালে প্রতি মাসে একবার পানিতে 'জিওলাইট' এবং ৪০ দিন অন্তর প্রোবায়োটিকস 'গোল্ডেন ব্যাক' প্রয়োগ করা আবশ্যক। 
----------------------------------------
pond plus ব্যবহারের নিয়ম: প্রতি ৩৫ শতাংশে ৫০ গ্রাম, প্রতি ১০ দিন অন্তর।
Aqua Magic ব্যবহারের নিয়ম: প্রতি একরে (১মিটার গভীরতা) ৫কেজি হিসেবে, ৩০ শতাংশের জন্য ১.৫ কেজি। এর সাথে ১৫০ গ্রাম চালের কুঁড়া ও ৫০ গ্রাম চিনি ৫ লিটার পানিতে ৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
 
মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ:

মাছ ধরার পদ্ধতি

  • দেশী মাগুর বাজার আকারে পৌঁছলে সমস্ত মাছ একবারেই ধরে বাজারজাত করতে হবে
  • আহরণের সময়ে প্রথমত জাল টেনে অধিকাংশ মাছ ধরে ফেলতে হবে
  • অবশিষ্ট মাছগুলো পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে ধরে ফৈলতে হবে
  • আবার পরবর্তী মৌসুমে নতুনভাবে মাছ চাষ শুরু করতে হবে

কেবলমাত্র জাল দিয়ে এই মাছ আহরণ করতে গেলে ৪০-৫০ শতাংশ মাছ পুকুরেই থেকে যায়। তাই চূড়ান্ত আহরণের জন্য পুকুর শুকিয়ে মাছ আহরণ করা আবশ্যক। মাগুর মাছ ৮-১০ মাস ও শিং ৪-৬ মাসের মধ্যে ধরার উপযোগী হয় (হক, ২০০৬)।
সাধারণত ১০০-১৫০ গ্রাম হলেই এই মাছ আংশিকভাবে আহরণের উপযোগী হয়।
উল্লেখিত ব্যবস্থাপনায় উচ্চ মজুদ ঘনত্বে বড় আকারের পোনা ছেড়ে এক শতাংশ আয়তনের পুকুর থেকে ছয়-আট মাসে ১৬-১৮ কেজি শিং/মাগুর মাছ পাওয়া সম্ভব। একইভাবে আংশিক আহরণের পর সমসংখ্যক পোনা পুনরায় মজুদ করার সম্ভব হলে একই আয়তনের পুকুর থেকে সারা বছরে ২৪-২৫ কেজি শিং/মাগুর মাছ পাওয়া সম্ভব।


এক নজরে-1
==============================
  1. পুকুর সেচের পর প্রয়োজনীয় জৈব সার সমান ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
  2. পুকুর শুকানোর - দিন পর বা বিষ প্রয়োগের - দিন পর চুন ব্যবহার করতে হবে।
  3. পুকুর শুকানো সম্ভব হলে শুকনো চুন এবং সম্ভব না হলে চুন তরল করে পুকুরে দিতে হবে।
  4. পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের - দিন পর পুকুরে ২/৩ ফুট পানি সরবরাহ করতে হবে, তবে চুন ছাড়াও জিওলাইট (প্রতি শতকে -২কেজিপুকুর প্রস্তুতির সময় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।অথবা ৫০ ভাগ চুন ও ৫০ভাগ জিওলাট একত্র করে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  5. পুকুরে পানি ভরাটের ৫-৭ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হবে (মেঘলা ও বৃষ্টির দিনে সার প্রয়োগ নয়)।
  6. সার প্রয়োগের - দিন পর পুকুরে খাদ্য তৈরী হলে মাছের পোনা মজুদ করতে হবে।
  7. পুকুরে পোনা ছাড়ার পূর্বে পোনাকে পুকুরের পানির সাথে অভ্যস্ত করে নিতে হবে, এজন্য মাছের ব্যাগগুলোকে ৩০মিনিট পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে।
  8. এরপর পোনাকে লবন পানিতে ৩০ সেকেন্ড করে শোধন করে নিতে হবে।
  9. এরপর সকালে কিংবা বিকেলের মৃদু ঠান্ডা আবহাওয়ায় (পুকুরে পোনা ছাড়াতে হবে, মেঘলা  ভ্যাপসা আবহওয়ায় পোনা ছাড়া উচিত নয়।


এক নজরে-2 (জিনিষপত্র)
==============================
  1. প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট গভীরতার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম রোটেনন পাউডার , যদি পুকুর না শুকানো যায়।
  2. শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে চুন, মোট ৩৫শতাংশের জন্য ৩৫কেজি পাথুরে চুন অথবা সমান ওজনের জিওলাইট
  3. অথবা ৫০ ভাগ জিওলাইট ও ৫০ ভাগ চুন একসাথে প্রয়োগ করা যায়।
  4. পুকুর প্রস্তুতির জন্য ৩৫শতাংশের জন্য গোবর ১৭৫কেজি, বা কমপোস্ট ২৮০কেজি, বা হাঁস-মুরগীর বিস্টা ১৭৫কেজি
  5. ইউরিয়ার ৪ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি, এমপি সার ১ কেজি
  6. সেকিডিস্ক
  7. পোনা শোধনের জন্য একটি বালতি, ঘন জাল, ৮ কেজি লবন, Lenocide ২৫০ সিসি
  8. পোনা ছাড়ার জন্য বড় ২টি বড় পাতিল
  9. পুকুরে চাষ চলাকালিন সময় ইউরিয়া ৩৫ শতাংশের জন্য ১৭৫ গ্রাম দৈনিক (মাসে ৬কেজি), ১০৫গ্রাম টিএসপি (মাসে ৩ কেজি), ৭ কেজি গোবর (মাসে ২১০ কেজি), ৭ কেজি চুন (মাসিক)।
  10. pH মিটার
  11. মশারীসহ বাশেঁর ফ্রেম-১বর্গমিটার (২টি)(খাদ্যদানীর জন্য)
  12. সম্পুরক খাবারের জন্য: চালের কুড়া ২০ কেজি, গমের ভুসি ১৫ কেজি, খৈল ২০ কেজি, ফিসমিল ৪০ কেজি, চিটাগুড় ৫ কেজি। অথবা- চালের কুড়া ৩০ কেজি, সয়াবিন চূর্ণ ৮ কেজি, ভুট্টা চূর্ণ ৫ কেজি, গমের ভুসি ১২ কেজি, চিটাগুড়/রাব ৫ কেজি, খৈল ২০ কেজি, ফিসমিল ২০ কেজি, ভিটামিন প্রিমিক্স (এমবাভিট-জি) ২০গাম/১০ কেজি খাবার, অথবা, খৈল ৩৫ কেজি, ফিসমিল ৩৫, চালের কুড়া ২৫ কেজি এবং আটা ৫ কেজি।(মোট ৩৩% প্রোটিন)
  13. সম্পুরক খাবার দরকার দৈনিক ১০কেজি, মাসে ৩০০ কেজি


৩৫ শতাংশ পুকুরের আয় ব্যয়ের হিসাব



আইটেমদ্রব্যাদির মোট পরিমাণ (কেজি)সম্ভাব্য একক দর টাকামোট ব্যয় (টাকা)নোট
মজুদ পূর্ব ব্যবস্থাপনা



পকুর ভাড়া



পুকুর প্রস্তুত



চুন৪২২৫১০৫০১ কেজি হারে
জিওলাইট৩৫২৫৮৭৫১ কেজি হারে
মজুদকালীন ব্যবস্থাপনা



গোবর১৭৫৩৫০
ইউরিয়া১০২০২০০শতকে ২০০গ্রাম
টি এস পি২৫১৫০শতকে ১০০গ্রাম
এমপিও সার২৫২৫শতকে ২০গ্রাম
পোনা২০০০০২.৫০৫০০০০১০% মৃত্যুহার ধরে, ৮০% মাগুর পোনা মজুদ ঘনত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাদ্য



ফিসমিল৮০০৭৪৫৯২০০
সরিষার খৈল৮০০৩৪২৭২০০
গমের ভুসি৪৮০৩২১৫৩৬০
সয়াবিন চূর্ণ৩২০৬০১৯২০০
অটোকুড়া১২০০১৮২১৬০০
ভুট্টা চূর্ণ২০০১৫৩০০০
চিটাগুড়২০০৪০৮০০০
ভিটামিন প্রিমিক্স২৮০১৮০০
মোট:৪৩২০
২০৮০১০
মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা



পরিচালনা, শ্রমিক মজুরী, মাছ ধরা ও অন্যান্য

১০০০০
মোট ব্যয়

২১৮০১০
৮ মাসে গড়ে ৯৫ গ্রাম হিসাবে ১৮০০০ হাজার মাছের মোট উৎপাদন

১৭১০কেজি





বিক্রয় মূল্য প্রতি কেজি ৫০০/- টাকা

৮৫৫০০০টাকা
মোট ব্যয়:

২১৮০১০টাকা
নিট মুনাফা

৬৩৬৯৯০টাকা