বিনাসয়াবীন-২ এর চাষাবাদ পদ্ধতি







সয়াবিন বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলবীজ ফসল। বর্তমানে বাংলাদেশে যা সয়াবিন উৎপাদিত হয় তা চাহিদার এক পঞ্চমাংশ মাত্র। এ চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞানীগণের উন্নত জাত উদ্ভাবনের চেষ্টার অংশ হিসাবে সয়াবিনের একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন যা “বিনাসয়াবিন-২” নামে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে সারাবছর চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে । এ জাতটি প্রধান বৈশিষ্ট সম্পর্কে জাতটির প্রধান উদ্ভাবক উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মোঃ আব্দুল মালেক, বলেন- উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছের উচ্চতা রবি মৌসুমে ২৭-৪০ সে.মি. এবং খরিফ-২ মৌসুমে ৩৫-৪২ সে.মি.। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫টি। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৪০-৫০টি। বীজ আকারে মাঝারি ধরণের এবং ১০০ বীজের ওজন ১৩.০-১৩.৮ গ্রাম। বীজে আমিষ, তেল এবং শর্করার পরিমাণ যথাক্রমে ৪৩, ১৯ এবং ২৬%। রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে জীবনকাল যথাক্রমে ১১৫ এবং ১১৭ দিন। রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে যথাক্রমে ২.৫-২.৮ এবং ২.৭-৩.৩ টন/হে. ফলন পাওয়া যায়।

মাটি ও আবহাওয়া: রবি এবং খরিফ উভয় মৌসুমেই সয়াবীন চাষ উপযোগী। বেলে দো-আঁশ, দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটিতে সয়াবীন চাষ করা যায়। খরিফ মৌসুমের জন্য উঁচু ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য জমি এবং রবি মৌসুমের জন্য মাঝারি থেকে নিচু জমি নির্বাচন করতে হবে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা, যশোহর, ময়মনসিংহ অঞ্চল সয়াবিন চাষের জন্য উপযোগী এলাকা।

জমি তৈরি: মাটির প্রকারভেদে ৩-৪ টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে এবং আগাছামুক্ত করে বীজ বপন করতে হবে। মই দিয়ে জমি সমান করার পর সুবিধামতো আকারে প্লট তৈরি করে নিলে পরবর্তীতে জমিতে সেচ প্রয়োগ, পানি নিষ্কাশন ও অন্তরবর্তীকালীন পরিচর্যা সুবিধা হয়।

বপনের সময়: রবি ও নাবী খরিফ উভয় মৌসুমেই সয়াবীন বপন করা যায়। রবি মৌসুমে পৌষের প্রথম থেকে মাঘ মাসের মাঝামাঝি (ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ) পর্যন্ত এবং নাবী খরিফ মৌসুমে মধ্য আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি (জুলাইয়ের প্রথম থেকে আগষ্টের শেষ) পর্যন্ত। খরিফ মৌসুমে উল্লিখিত সময়ের আগে বপন করলে ফুল আসতে কিছুটা বিলম্ব হয় বিধায় ফসলের আয়ুকাল দীর্ঘায়িত হয়।

বীজের হার: সারিতে বপনের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ২২ কেজি (হেক্টরে ৫৫ কেজি) এবং ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ২৮ কেজি (হেক্টরে ৭০ কেজি)।

বপন পদ্ধতি: সয়াবীন বীজ সারিতে বপন করা উত্তম। তবে মাসকলাই বা মুগ ডালের মতো ছিটিয়েও বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দুরত্ব রবি মৌসুমে ৩০ সেঃমিঃ দিতে হবে। সারিতে ৩-৪ সেঃমিঃ গভীর করে বীজ বপন করতে হয়। ছিটিয়ে বপন করলে চাষের পর বীজ ছিটিয়ে মই দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে। বপনের পূর্বে ছত্রাক বা কীটনাশক দ্বারা বীজ শোধন করে নিলে ভালো।

সারের মাত্রা ও প্রয়োগ: জমির উর্বরতা সব জায়গায় সমান নয়। তাই কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভেদে সারের মাত্রা বিভিন্ন রকম হয়। সয়াবীন চাষের জন্য সাধারণভাবে অনুমোদিত সারের মাত্রা হলঃ একর প্রতি ইউরিয়া ২০-২৫ কেজি অথবা জীবাণুসার প্রতি কেজি বীজের জন্য ২৫-৩০ গ্রাম, টিএসপি ৬০-৭০ কেজি, এমওপি ৩৫-৪০ কেজি, জিপসাম ৩৫-৪৫ কেজি। রাসায়নিক সারসমূহের সাথে পঁচা গোবর বা কম্পোষ্ট সার প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সার কম লাগবে। শেষ চাষের পূর্বে রাসায়নিক সার ছিটিয়ে মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে।

জীবাণুসার প্রয়োগ ও ব্যবহার পদ্ধতি: সয়াবীন গাছ রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে গাছের শিকড়ে জমা করতে পারে। বপনের আগে বীজে জীবাণুসার মিশিয়ে বপন করলে গাছের শিকড়ে নডিউল বা গুটি সহজে সৃষ্টি হয় এবং এ নডিউল থেকে গাছ নাইট্রোজেন পায়। এক কেজি ভিজা সয়াবীন বীজের মধ্যে ২০-৩০ গ্রাম জীবাণুসার ছিটিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজের গায়ে সমভাবে মিশে যায়। জীবাণুসার মিশানোর পর বীজ বেশি সময় রোদে ফেলে রাখলে গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই তাড়াতাড়ি বীজ বপন করতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: চারা গজানোর ২০-২৫ দিনের মধ্যে আগাছা দমন করতে হবে। গাছ খুব ঘন হলে পাতলা করে দিতে হবে, জাতভেদে সারিতে গাছ হতে গাছের দূরত্ব রাখতে হবে ২.৫-৪.০ ইঞ্চি। তবে প্রতি বর্গ মিটারে রবি মৌসুমে ৫০-৫৫টি এবং খরিফ মৌসুমে ৪০-৫০টি গাছ রাখা উত্তম। রবি মৌসুমে গাছে ফুল ধরা এবং ফল বা শুঁটি ধরার সময় সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হতে পারে। বৃষ্টি না হলে প্রথম সেচ বীজ গজানোর ২০-৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয় সেচ বীজ গজানোর ৫০-৫৫ দিন পর দিতে হবে। খরিফ মৌসুমে সাধারণত কোন সেচের প্রয়োজন হয় না, বরং জমিতে পানি জমে গেলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন: বিছাপোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা সয়াবীনের মারাত্মক ক্ষতি করে। ডিম থেকে ফোটার পর ছোট অবস্থায় পোকাগুলো একস্থানে দলবদ্ধভাবে থাকে এবং পরবর্তীতে আক্রান্ত গাছের পাতা খেয়ে জালের মতো ঝাঁঝরা করে ফেলে। এ পোকা দমনের জন্য আক্রান্তপাতা দেখে পোকাসহ পাতা তুলে পোকা মেরে ফেলতে হবে। পোকার আক্রমণ বেশি হলে সেভিন ৮৫ এসপি ৩৪ গ্রাম পাউডার প্রতি ১০ লিটার পানিতে অথবা এডভাটেজ ২০ এসসি ৩০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে ¯েপ্র করতে হবে।

কান্ডের মাছি পোকা: এ পোকার কীড়া কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের নরম অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে আক্রান্ত গাছের অংশ বিশেষ অথবা সম্পূর্ণ গাছ দ্রুত মরে যায়। এ পোকার দ্বারা আক্রান্ত হলে ডায়াজিনন ৬০ ইসি ২৫-৩০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে ¯েপ্র করতে হবে।

হলুদ মোজাইক ভাইরাস: সয়াবীনের সবুজ পত্রফলকের উপরিভাগে উজ্জ্বল সোনালী বা হলুদ রঙের চক্রাকার দাগের উপস্থিতি এ রোগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বিনাসয়াবীন-২ হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল। তবে সুস্থ এবং রোগমুক্ত বীজ বপনের মাধ্যমে এ রোগের আক্রমণ অনেকটা কমানো যায়।

কান্ড পঁচা রোগ: মাটিতে অবস্থানকারী ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। গাছের পাতা হলুদ হওয়া দেখেই এ রোগের আক্রমণ সনাক্ত করা যায়। আক্রান্ত গাছের কান্ড এবং মূলে কালো দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যায়। গভীর চাষ এবং জমি হতে ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলে এ রোগের উৎস নষ্ট করা যায়।

ফসল সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ

ফসল পরিপক্ক হলে গাছগুলো শুঁটিসহ হলুদ হয়ে আসে। এ সময় সয়াবীন গাছ মাটির উপর হতে কেটে সংগ্রহ করতে হবে। ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দানাগুলো আলাদা করতে হবে। মাড়াই করা বীজ রোদে ভালো করে শুকিয়ে ঠান্ডা করে গুদামজাত করতে হবে। সয়াবীনের অংকুরোদগম ক্ষমতা সাধারণ অবস্থায় বেশি দিন বজায় থাকে না। দুই থেকে তিন মাস পরই বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা কমতে শুরু করে। তাই পরবর্তী মৌসুমে লাগানোর জন্য বীজ সংরক্ষণ করতে হলে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে:

১. বীজ বিশেষ যত্নসহকারে ত্রিপল বা চাটাইয়ের উপর শুকাতে হবে। ২-৩ ঘন্টা করে কয়েক দিন শুকাতে হবে। শীতকালে একটানা ৪-৫ ঘন্টা ধরে শুকালেও কোন ক্ষতি হয় না। বীজ এমনভাবে শুকাতে হবে যাতে বীজের আর্দ্রতা ৯% এর বেশি না থাকে।

২. শুকানো বীজ ভালোভাবে ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং রোগাক্রান্ত পঁচা বীজ বেছে ফেলে দিতে হবে।

৩. পলিথিনের ব্যাগ, টিনের ড্রাম, আলকাতরা মাখা মাটির মটকা বা কলসীতে বীজ সংরক্ষণ করে মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে যেন কোনভাবেই ভিতরে বাতাস ঢুকতে না পারে। বীজ শুকানোর পর গরম অবস্থায় সংরক্ষণ না করে ঠান্ডাা হলে সংরক্ষণ করতে হবে।

৪. বীজের পাত্র অবশ্যই ঠান্ডা অথচ শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে। সরাসসি মেঝেতে না রেখে মাচা বা কাঠের তক্তার উপর রাখলে ভালো হয়।

৫. মাঝে মধ্যে বীজের আর্দ্রতার দিকে নজর রাখতে হবে। বীজের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে প্রয়োজন মতো রোদে শুকিয়ে পূর্বের ন্যায় একই নিয়মে পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

লেখকঃ *প্রিন্সিপাল সায়িন্টিফিক অফিসার,

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ।

শেকৃবির ‘৯০ মিনিট স্কুল কৃষির সমস্যা সমাধানে







শহরাঞ্চলে ফুল, ফল ও সবজির পারিবারিক বাগান এখন আর কেবলই সৌখিনতা বা পারিবারিক প্রয়োজন নয়। পরিবেশ রক্ষা আর নগরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে অনেক দেশেই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গাড়ি বারান্দা, ফুটপাত, পার্ক, সরকারি খাস ভূমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে উদ্যান ফসল ও বাহারি ফুলের গাছের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে সবুজ নগরায়ন। আমাদের দেশেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে ছাদ বাগানের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে শহরে সবুজায়ন শুরু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নয় বরং একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এদেশে ছাদ বাগানের সূচনা । কিন্তু এই বাগান করতে গিয়ে অনেকেই আবার বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেমন-গাছের পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ, কোন ফসলের কোন রোগের জন্য কোন ওষুধ কার্যকর, গাছ মরে যাওয়া, আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়া, কখন কোন গাছ লাগাতে হবে ইত্যাদি। এ জাতীয় সমস্যার সমাধানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘৯০ মিনিট স্কুল’ নামে বিশেষ সেবা। এ সেবার আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের গ্রাফটিং বা কলমের চারা তৈরী করার কলা কৌশলও শিখানো হচ্ছে হাতে কলমে।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় প্রশ্ন ও উত্তর পর্বের। প্রতি শুক্রবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে সকাল ১০টা হতে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত (৯০ মিনিট) চলে এ প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব। এ সময় বাগান মালিকরা তাদের সমস্যার কথা জানান এবং অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন সেসব সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেন। এ সেবা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগুলো পরবর্তীতে আর্কাইভে থাকছে।

অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, বাগান করতে গিয়ে বাগানিরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের সমস্যার মুখে পড়েন। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্ন করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত উত্তর পান না। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার কথা চিন্তা করেই আমরা ৯০ মিনিট স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছি। তিনি আরও বলেন, এই প্রশ্নোত্তর পর্বের উদ্যোক্তা ফেসবুক গ্রুপ গ্রীন বাংলাদেশ। এ গ্রুপে প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট বিষয় উপর বাগানিদের সমসাময়িক সমস্যা জানতে চাওয়া হয়। এরপর বাগানিরা সেখানে তাঁদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এই সাত দিনের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয় শুক্রবার। প্রশ্নকারী ব্যক্তিরা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর সরাসরি জানতে পারছে সেখানে। এ ছাড়া আগ্রহী লোকজনকে হাতে-কলমে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জুরাইন থেকে আগত শাকিলা ইসলাম জানান, তার বাসার ছাদে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মরিচগাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। গাছ থেকে আশানুরূপ ফলনও পাচ্ছেন না তিনি। এসব সমস্যার সমাধান জানতে তিনি ছুটে এসেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ মিনিট স্কুলে। এখানে এসে উপযুক্ত সমস্যা সমাধান পেয়ে তিনি খুবই খুশি।

প্রশিক্ষণার্থীর শাহনাজ পারভীন ৯০ মিনিট স্কুল ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারনে সকালে ক্লাসে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন করে যদি সবগুলি ক্লাসের ভিডিও পাই তাহলে না যেতে পারার দুঃখটা কমে। এই দূরশিক্ষণের মাধ্যমে একদম প্রত্যন্ত এলাকার একজন বেগুন চাষী বা পাহাড়ি কোন মেয়ের শখের লেবু গাছ বাঁচানোর জন্য কি করতে হবে তা সহজেই বুঝতে পারবে। তাদের হতাশা আর অসহায়ত্ব কেটে যাবে। কৃষিবিভাগ যা করতে পারছে না তাদের হাজার হাজার কর্মী নিয়ে আপনি একাই এই ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে তা করে যাচ্ছেন। তিনি আরও লিখেছেন, গ্রামের বা রক্ষনশীল পরিবারের মেয়েরা যাদের বাইরে চলাচল ও লোকের সাথে কথা বলায় ততটা স্বাধীনতা নাই। কিন্তু বাসার আঙিনায় বা ছাদে ছোট্ট একটা বাগান আছে। তাদের জন্য এটা খুবই কার্যকর উদ্যোগ।

২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া এ স্কুলের কর্মসূচি ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। প্রতি শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেড় থেকে দুইজন অংশগ্রহণ করছে। বাণিজ্যিকভাবে ভাসমান সবজি চাষ, গোলাপ চাষ, প্লান্ট নিউট্রিউশন, দেয়াল কার্পেট গাছ, মাটি ও মাটি তৈরি নিয়ে কথা, ক্যাকটাস চাষ, টবে কিভাবে গাছ লাগাতে হয় প্রভূতি বিষয় সম্পর্কে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমসমায়িক বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

ড. জামাল উদ্দিন বলেন, বাগান করার পর উচ্ছিষ্ট বা অবশিষ্ট গাছের চারা ফেলে না দিয়ে অপরকে উপহার হিসেবে দেয়ার জন্যও আমরা উৎসাহ দিতে ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।

নতুন দিগন্তের হাতছানি পোল্ট্রি শিল্প সুরক্ষায়





প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম উপখাত হিসাবে পোল্ট্রি শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।



দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান আমিষের চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ হাজার ছোট-বড় পোল্ট্রি খামার রয়েছে যার সাথে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। দেশের মোট মাংসের চাহিদার ৪০-৪৫ শতাংশ আসে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। ডিম এবং মাংস সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রোটিন ঘাটতি পূরণে পোল্ট্রিখাতের অবদান সর্বজনবিদিত। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্প প্রায়শঃই সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির যার মধ্যে রোগ-বালাই অন্যতম। পোল্ট্রির বিজ্ঞানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে তিন বছর মেয়াদে পোল্ট্রির রোগের উপর বাংলাদেশের ৯০ জন প্রাণিচিকিৎসককে আর্ন্তজাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়েছে ফান্স।






বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রাণী স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের সেভা সান্তে এনিমালি (সেভা) ও বিশ্বের সুপ্রাচীন প্রাণিচিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগ কর্তৃক বাস্তায়িত ৩য় বারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে অক্টোবর মাসে সমাপ্ত হয়। তিন বছরের জন্য স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের মাধ্যমে প্রতি বছর সারা দেশের ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে চার মাসে চার সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিন সেশনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত পোল্ট্রি রোগ সংশ্লিষ্ট ২৪ জন ভেটেরিনারিয়ান, বেসরকারি খাতে কর্মরত পোল্ট্রি রোগ সংশ্লিষ্ট ৪৮ জন ভেটেরিনারিয়ান এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা কিন্তু পোল্ট্রি রোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহী ১৮ জন নির্বাচিত ভেটেরিনারিয়ান প্রশিক্ষণ লাভ করেন। সেভা’র পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি স্কুল অফ প্যারিসের আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ প্রশিক্ষকগণ প্রশিক্ষণার্থীদেরকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিন বছর মেয়াদে বাস্তায়িত এই প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে শেকৃবির এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ডঃ মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন এবং প্রোগ্রাম ইন চার্জ হিসেবে মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৫ অক্টোবর ট্রেনিং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রোভাইডার এসিআই এগ্রিবিজনেস কর্তৃক তেজগাঁওস্থ এসিআই সেন্টারে আয়োজিত এক জাকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণি চিকিৎসকদের মধ্যে উক্ত প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ করা হয়। এসিআই এগ্রিবিজনেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ, এইচ আনসারীর সভাপতিত্বে এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ট্রেনিং প্রোগ্রাম ইন চার্জ ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব কাজি ওয়াসিউদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস, এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম, ফরাসি ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর কন্টিনিউয়াল এডুকেশনের প্রধান প্রফেসর ড. কারিম আদযু, সেভা সান্তে এনিমালি ফ্রান্সের টেকনিক্যাল ম্যানেজার প্রফেসর ড. মুন্সেফ বউযুইয়া, প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. ম্যারি ডুক্রোটয়। অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিল্নে ফ্রান্স এম্বাসি বাংলাদেশের ডেপুটি হেড অফ মিশন, পলিটিক্যাল এন্ড কালচারাল এফেয়ার মি. এফজি টেকো।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের জলবায়ুসহ সার্বিক পরিবেশ পোল্ট্রি চাষে উপযোগী বিধায় এ সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এই শিল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। বর্তমানে এ শিল্পে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকার উর্ধ্বে হলেও পোল্ট্রির রোগবালাই চিকিৎসা ও প্রতিরোধ এবং আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তির অভাবে বারবার হোচট খাচ্ছে দেশের গুরুত্বপুর্ণ এই শিল্প। সুস্থ-সবল ও নীরোগ পোল্ট্রি শিল্প নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপুর্ণ এই শিল্প। রক্ষার্থে আয়োজিত এ ধরণের প্রশিক্ষণ নি:সন্দেহে পোল্ট্রি সেক্টরকে অনেক সমৃদ্ধ করবে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে এধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ধারাবাহিকভাবে করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ট্রেনিং প্রোগ্রাম ইন চার্জ ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম জানান ২০১৬ সালের ২২ জুন বাংলাদেশের প্রাণি চিকিৎসকদের পোল্ট্রির বিজ্ঞানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উন্নত জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় প্রাণীস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেভা সান্তে এনিমালি (সেভা) এবং ফ্রান্স ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল (এনভা) এর সাথে তিন বৎসর মেয়াদে বাস্তায়নযোগ্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে শেকৃবি’র এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ। স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় শেকৃবি’র মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের মাধ্যমে গত তিন বৎসর যাবত সারাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্য থেকে প্রতিবছর নির্বাচিত ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে চার সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বছর তৃতীয়বারের মত এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলো। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী ভেটেরিনারিয়ানগণ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পকে লাভজনক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি আরো জানান, এ ধরণের প্রোগ্রাম স্থানীয় একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে ভেটেরিনারি শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের পোল্ট্রির রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী প্রাণিচিকিৎসদের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন শেকৃবি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সেভা সান্তে এনিমালি ফ্রান্সের বাংলাদেশি বিজনেস পার্টনার ও ট্রেনিং লজিস্টিক সাপোর্ট প্রভাইডার এসিআই এগ্রিবিজনেস এর বিজনেস ম্যানেজার ডা. মোঃ মইনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দসহ মিডিয়ায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গ।

সূত্রঃ krishibarta






দেশী মুরগি পালন কৌশলের বর্ণনা

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বর্ণনা :-
আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।
গবেষনায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় ।
শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।
মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে । খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়।
ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।
ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষন :-
আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে।
দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহ :-
উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।
*** ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয়
নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো

সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
*** প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট
পালট করে দিতে হবে।
*** বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে
বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে
করে দিতে হবে।
*** ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা
শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।
বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :-
গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে।
উপরোক্ত বর্নিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।
মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।
প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে। দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় ।
ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে ।
* ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।

হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার

হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার... পশু খাদ্যের এক অপূর্ব সমাধান।

আমরা যারা ডেইরি, গরু মোটাতাজা করন, ছাগল ও গড়াল পালন করছি বা করতে চাই তারা কাঁচা ঘাসের সংকটে পরেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার জোগাড় করতে কি পরিমান ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যে সেটা করেছে সেই তার বিড়ম্বনার কথা বলতে পারবে।
এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হলো "হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডার"। খুব সহজে, সল্প জায়গায়, অল্প খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে মান সম্মত পশু খাদ্য আমরা এর মাধ্যমে পেতে পারি। এর পুষ্টি গুন সাধারণ উফশী ঘাসের চেয়ে বেশি।

উপকরণ:
১. ২ কেজি পরিমান গম বা ভুট্টা (চারা গজাবে এমন)।
২. কিছু পানি।
৩. ট্রে বা ট্রের মতো পাত্র (৩'×২'×৩")।
৪. ঠান্ডা ও ছায়া যুক্ত পরিবেশ।
৫. একটি নিংড়ানো পুরান তোয়ালে বা চটের বস্তা।
৬. বালতি বা গামলা।
প্রস্তুত প্রণালী:
যে দিন করতে চান সে দিন, সকালে প্রথমে ভুট্টা বা গম ভাল করে ধুয়ে ৬-৭ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখবেন। বিকেলে পানি ছেকে ট্রেতে সাজিয়ে তার উপরে নিংড়ানো তোয়ালে বা চট দিয়ে ঢেকে ঠান্ডা ছায়া যুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। এরূপ রাখলে ১০-১৫ ঘন্টার মধ্যে ভুট্টা বা গম অঙ্কুর দেবে। অঙ্কুর দেয়ার পর অঙ্কুর ১-১.৫ ইঞ্চি হলে তার পর চট সরিয়ে রাখতে হবে। এবং অঙ্কুর দেয়ার পর থেকে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ৩-৪ ঘন্টা পর পর পানি স্প্রে বা ছিটিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি ট্রেতে জমে না থাকে। এমন করতে করতে ৭-৯ দিনের মধ্যে ৬-৯ ইঞ্চি হলে পশু কে এর কান্ড সহ খাওয়ানো যায়।
১ কেজি পরিমান ভুট্টা বা গমে ৭-১০ কেজি পরিমাণ গ্রিন ফোডার পাওয়া যায়।
হাইড্রোপনিক গ্রিন ফোডারের উপকারীতা:
১. এতে প্রোটিনের পরিমান ৩১.৯৯% আর সাধারণ ঘাসে প্রোটিন থাকে ১১.৫%।
২. এনার্জি ৪৭২৭কি:ক্যা:/KG আর সাধারণ ঘাসে ২৬০০কি:ক্যা:/KG।
৩. তাই সাধারণ ঘাস দিনে ৩ বার লাগে আর এটা ২ বার দিলে হবে।
৪. ২৪০ কেজি পরিমাণ ঘাস ফলাতে জমি লাগে ২১৭৮ বর্গফুট আর সমপরিমাণ গ্রিন ফোডার ফলাতে ২২৯ বর্গফুট জমি।
৫. সাধারণত ৮০ লিঃ পানি খরচ করে যে পরিমাণ ঘাস পাওয়া যায়। সে পরিমান গ্রিন ফোডার ফলাতে মাত্র ৩ লিঃ পানি লাগে।
৬. ৭-৯ দিনে এই ফোডার যে পরিমাণ বাড়ে, সে পরিমান সাধারণ ঘাস বড় হতে লাগে ৩৭-৪০ দিন।
৭. গ্রিন ফোডার নিরাপদ, ফুড পয়জনিংয়ের সম্ভাবনা নাই। দূষণ মুক্ত।
৮. এটা সহজে পশুকে পরিবেশন করা যায়। কাটা কাটির দরকার হয় না।
৯. এটা পশুর স্বাস্থ্য ভাল করে এবং দ্রুত প্রজনন ক্ষম করে কারন এতে অনেক ভিটামিন উপাদান আছে।
১০. ১ কেজি ফডারের উৎপাদন খরচ ২.৫-৪ টাকা।
১১. এর মাধ্যমে খামারের শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো যায়।
১২. সারা বছর এটা উৎপাদন করা যায়।
বি:দ্র: আমি নেট ঘাটাঘাটি করে লিখলাম। নিশ্চয়ই এতে ভুল থাকতে পারে। তাই আমার ভুল ক্ষমা করে, কমেন্টে সাপ্লিমেন্ট দিবেন আশাকরি।

ব্লেক বেঙ্গল

আপনি জানেন কি আধুনিক পদ্ধতিতে ১০০টি ব্লেক বেঙ্গল / দেশীয় ছাগল পালন করে
১ বৎসরে ২৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব । কিন্তু করতে হবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ।
িস্তারিত পদ্ধতি নিচে মোবাইল - 01990198469
পরু লেখাটা না পড়ে দয়া করে কেহ কল দিবেন না।
ফামর্ শুরু করতে যা যা লাগবে ।
১) প্রথমে ৬৬ শতাংশ জমিতে নেপিয়ার চাষ শুরু করবেন। সঠিক পরিচযর্ায় নেপিয়ার ৪০-৪৫ দিনে পূনাঙ্গ হবে। ঘাস তৈরি না করে ভুলে ও ছাগল কিনবেন না। তা হলে প্রথম দিন হতে ই আপনার ফামর্ে লস হতে শুরু করবে।
২) একই সময়ে আপনাকে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক ঘর তৈরি করতে হবে, ঘর তেরীতে যা লাগবে, ১হাজার ইট, ২০ টি নেট, ১৮ টি সিমেন্টের খুঁটি, গ্রীল বা বাঁশ আর প্রয়োজনীয় টিন। খরচ ৩-৪ লক্ষ টাকা ।
৩) দেশীয় জাতের পিউর ব্লেকবেঙ্গল ছাগল ১০০টি ।
৪) একটি উন্নত জাতের পাঠা/ বাক ।
৪) ঘর তৈরির জন্য ২ শতাংশ জায়গা।
৫) আধুনিক ছাগল পালন পদ্ধতি সমন্ধে বাস্তব জ্ঞান বা হাতে কলমে ট্রেনিং। সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে করলে সবচেয়ে ভালো হয়। ট্রেনিং ছাড়া ভুলে ও শুরু করবেন না, ট্রেনিং ছাড়া করলে প্রথমে হয়ত ৫-৬ হাজার টাকা সেভ করেছেন মনে হবে, কিন্তু বাস্তবে ৭-৮ লক্ষ টাকা পুরোটাই নষ্ট হবে , এক বছরের পূবর্েই ফামর্ টি বন্দ হয়ে যাবে । যেমন টি হয়েছে হয়েছে পোল্টী ফামর্ের ক্ষেত্রে । যেমন আনেক ফামর্ খুব ভালো করছে, তেমন আনেক ফামর্ আবার বন্দ।
শুরু করতে মোট খরচ হবে ৭-৮ লক্ষ টাকা , বিস্তারিত হিসাব নিচে।
আমার কি লাভ তার হিসাব ও নিচে ।

আনেকের সাথে কথা বলেছেন , সবাই বলেছে ছাগল পালে পাগলে। বা ছাগলের রোগ বালাই বেশী হয়।
ঐ কথাগুলো কে ভূল প্রমানিত করতে বেশী কষ্ট করতে হবেনা । নিশ্চয় আপনার কোন আত্মীয় বা বন্দু বা পরিচত লোক বিদেশে থাকে, আমেরিকা, কানডা, সুজারলেন্ড, সৌদি, দুবাই , কাতার , কুয়ত, সিঙ্গাপুর বা মালেশিয়াতে থাকে,সে যেই দেশে থকুক না কেন , শুধু জিজ্ঞাসা করবেন কোন দেশের ছাগলের মাংস/ বা মাটন খান সবাই বলবে আষ্টেলিয়া।
আষ্টেলিয়া যদি ছাগল উৎপাদন করে সারা বিশ্বের চাহিদা মেটাতে পারে।
যেখানে আবহাওয়া আমাদের চাইতে আরো খরাপ, যখানে একজন শ্রমিকের এক মাসের বেতন কম পক্ষে ২০০০ ডলার, যা দিয়ে আমাদের দেশে এক জন শ্রমিকের ১৬-২০ মাসের বেতন দেওয়া যাবে । তাহলে আমরা কেন পারবনা। আমাদের দেশে তো সব খরচ ই কম।
তারপর ও ভাবছেন ৭-৮ লাক্ষ দিয়ে করব যদি না হয়?
আপনি শিক্ষিত বেকার যুবক , পরিশ্রম করতে আগ্রহী, সবাই কে দেখিয়ে দিতে চান পরিশ্রম করলে সবই সম্ভব ।
আমরা আপনাকে সুযোগ করে দিব, চলে আসুন আমাদের ফামর্ে ।
আপনার ছাগলের ঘর আমরা দিব, প্রজননের জন্য উন্নত পাঠা আমরা দিব, ঘাসের জন্য জমি দিব, শুধু ২০-৩০ টি ব্লেকবেঙ্গল ছাগল নিজে কিনে আগ্রহ ও নিষ্ঠার সাথে করুন, ২ বৎসর পর পূবের্ যারা বলেছে ছাগল পালে পাগলে, তারাই আপনার কাছে শিখতে আসবে কি ভাবে শুরু করা যায়।
নুতন উদ্যোক্তা যারা আমার সাথে একমত , এখন ই শুরু করতে চান, প্লিজ তারা হুরো না করে সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান হতে আগে ট্রেনিং নিন, প্রয়োজনে আমাদের ফামর্ে এক মাস থেকে সব বিস্তারিত জেনে নিন। আমাদের ফামর্ে ফ্রি ট্রেনিংয়ের ও ফ্রি থাকার ব্যাবস্থা আছে।
ফোন - ০০65 8328 0194
Viver - 0065 8328 0194
WhatsApp - 006583280194
Imo -006583280194
ট্রেনিংয়ের জন্য যোগ্যতা কি?
১) বাংলা পড়তে ও লিখতে জানতে হবে ।
২) ইন্টারনেটের ব্যবহার জানলে বেশী ভালো হয়।
৩) নিজ হাতে ১০০ ছাগলকে খাবার দেওয়া , ও পরিচযর্ায় করতে হবে, তখনি আপনি জেনে যাবেন আপনি পরবেন কি পারবেন না।
৪ লাখ ৫ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাবার কথা ভাবছেন ?
আপনার বন্দু বান্ধব বা আত্তীয় যারা বিদেশে আছে তাঁদের কাছথেকে সত্যিকথাটি জেনেনিন তারা বাৎসরিক কি পরিমান আয় করছেন , আর দিন রাত কি পারিমান অমানসিক পরিশ্রম তারা করছেন। প্রয়োজনে আমাদের আইডিয়াটা তাঁদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাঁদের মতামত নিন।
আপনারা যারা টাকা নিয়ে বসে আছেন ব্যবসা করার জন্য, কি ব্যাবসা করবেন খুজে পাচ্ছেন না , লাভ লোকসানের হিসেব মিলছে না তারা দয়াকরে একটু পড়ে দেখবেন।
প্রথমে অন্য ফামর্ হতে ১০০ দেশীয় জাতের প্রাপ্ত বয়স্ক ব্লেক বেঙ্গল (পিউর ব্রীড/ অরিজনাল জাতের ) ডো/ মহিলা/পাঠি ছাগল সংগ্রহ করতে হবে। যাতে আপনার ফামর্ে আনার কিছু দিনের মধ্যে গভর্বতী হতে শুরু করে।
ফামর্ হতে সংগ্রহ করলে দাম একটু বেশী হবে , কিন্তু সুস্থ সবল টিকা দেওয়া ও একই বয়সী পাবেন।
অন্য ফামর্ের দাম আমাদের জানা নেই,
আমাদের ফামর্ে প্রতি পিছ -৩৫০০ টাকা ।
সবর্ নিন্ম অডর্ার ২০ পিছ, কোন ডেলীভারী দেওয়া হয় না , আসার সময় পিকআপ নিয়ে অসতে হবে ।
আনেকে আবার পুরো আরটিকেল টি পরার পর বলবেন আপনি বিক্রি করছেন ৩৫০০ টাকা করে আর আমাকে বলেছেন ৭০০০ টাকা বিক্রি করতে এটা কেমন কথা। আমরা যেটা বিক্রি করছি তা হল পিউর ব্লেকবেঙ্গল ওজন ৯-১২ কেজি ; আর আপনি যেটি বিক্রি করবেন সেটি হল সংকর জাতের ।বিস্তারিত নিচে ।
ট্রেনিংয়ের করার পর ইচ্ছে করলে আপনি নিজে এলাকার বাজার হতে সঠিক জাত চিনে সুস্থ সবল দেখে ছাগল কিনতে পারেন , তাঁতে কিছুটা দাম কম লাগবে । কিন্তু মনে রাখবেন , অসুস্থ না হলে বা খুব বেশী টাকার প্রোয়োজন না হলে সাধারানত বাজারে কোন ব্যক্তি ডো/ মহিলা/পাঠি বিক্রী করে না । সেই ক্ষেত্রে বাজার হতে খুব সতকর্ার সাথে কিনতে হবে । কেনার পর ১৫ দিন এই ছাগল গুলো ফামর্ের ভেতর আনা যাবে না , ফামর্ হতে দুরে অন্য কোথা ও রাখতে হবে। ১৫ দিনে যদি কোন রোগের লক্ষন না দেখা দেয় তারপর ফামর্ে নিয়ে আসুন।
আর এদেরকে প্রজনন করার জন্য ১টি উন্নত জাতের পাঠা /বাক সংগ্রহ করতে হবে।
ছাগল বৎসরে ২ বার ২টি করে বাচ্চা দেয় তা হলে ১০০ ছাগল এক বৎসরে ৪০০ টি বাচ্চা দিবে,
তবে মনেরাখতে হবে যে কখনোই ফামর্ে একত্রে বাচ্চার সংখ্যা ছোট বড় মিলে ৬০-৭০ টির বেশী হবেনা , যেহেতু বিভিন্ন দিনে বাচ্চা গুলো জন্মগ্রহন করবে। যেগুলি ৫-৬ মাস হবে লট আকারে বৎসরে ১০-১২ বার বিক্রি করতে হবে ৩০-৪০ টি করে ।
উন্নত জাতের পাঠা দিয়ে প্রজনন করানো হলে সংকর জাতের বাচ্চা গুলো ৫-৬ মাস বয়সে ২০-২২ কেজী হবে।
যেভাবে আমরা দেশীয় গরু কে উন্নত জাতের ষাঁড় দিয়ে প্রজনন করিয়ে উন্নত জাতের বাছুর পাই।
২০ কেজী ওজনের ছাগল হতে ১৪ কেজী মাংস
হবে, ৫০০ টাকা কেজী হিসেবে ১৪ কেজী মাংসের দাম ৭০০০ টাকা ।
তাহলে ৪০০ বাচ্চা ৭০০০ টাকা হিসেবে ৪০০x৭০০0=2৮00000 (2৮ লক্ষ টাকা) বিক্রি হবে।
এ বার আসি বৎসরিক খরচ এ ,
একজন কর্মচারি মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে ১২০হাজার টাকা,
ঔষধ ৩০ হাজার টাকা,
প্রতিটি ব্লেকবেঙ্গল ছাগলের সুষম খাবার খরচ
মা ও বাচ্চা গড়ে ৩ টাকা ।
গড়ে দৈনিক খাবার খরচ-৪৫০ টাকা
বাৎসরিক খাবার খরচ ১৬৫ হাজার টাকা ।
( ঘাস বাদদিয়ে , কারন ঘাস নিজে উৎপাদন করে খাওয়াতে হবে )
টোটাল খরচ = ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা
মোট মুনাফা ২৮-৩.১৫=২৪.৭৫ বা ২৫ লক্ষ টাকা ।
আর একটি কথা মনে করিয়ে দেই , আপনি মূলধন হিসেবে যে ছোট ছাগল গুলো কিনছিলেন সে গুলো ছোট হতে বড় হওয়াতে মূলধনের পরিমাণ ও বেড়েছে।
এখন চিন্তা করছেন সবই তো বোঝলাম, তার পর আমি করলে যদি না হয় ভাই?
আপনার আইডিয়াটা ভাল আমার পছন্দ হয়েছে , কিন্তু করতে যে টাকা লাগবে তা তো নাই।
উপরের এই ২ সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা হেল্প করি।
তা হলে আপনি নিজে চলে আসুন আমাদের ফামর্ে, নিজে কিছু ছাগল কিনে শুরু করে দিন আমাদের সাথে , আমাদের ঘর, আমাদের ঘাস , আমাদের পাঠা সবই ব্যাবহার করতে পারবে, শুধু মাএ আপনার ডো/ মহিলা/পাঠি ছাগল গুলো আমাদের পদ্ধতিতে পালন করতে হবে , কিছু দিন পর আপনি যখন কনফিডেন্ট হয়ে যাবেন , আপনার বাড়িতে শুরু করে দিন আধুনিক ফামর্ ।
এখন তো সব ই বোঝলাম , বলেন তো ভাই আপনার মূল উদ্দেস্য টা কি , বাংঙ্গালী তো লাভের ব্যাবসা কারো সাথে শেয়ার করে না ।
মূল উদ্দেশ্য তে যাওয়ার আগে আপনার পালন করা ছাগল কোথায় বিক্রি করব তা জেনে নেই।
সরকারি হিসাব আনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংক্ষ্যা কম বেশী ১৬ কোটি।
প্রতিপরিবারে জনসংক্ষ্যা ৪-১০ জন।
আমরা যদি ১০ জন হিসেবে প্রতিটিপরিবার হিসাব করি তা হলে দেশে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার আছে।
১০ জনের প্রতিটিপরিবার যদি মাসে ১ কেজী করে খায় , তাহলে প্রতি মাসে বাজারের চাহিদা ১ কোটি ৬০ লক্ষ কেজী । বিয়ে, বৌভাত, সুন্নতে খৎনা , সামাজিক অনুষ্ঠান হোটেলের হিসাব না ই করলাম,
১যদি ও বাস্তবে ১ কেজীতে মাংসতে ১০ জন লোকের এক বেলা ও হবে না।
তাহলে প্রতিটি ছাগল হতে যদি ১৪ কেজি মাংস হয় ১ কোটি ৬০লাখ পরিবারের জন্য মাসিক চাহিদা = ১১ লক্ষ ৪২ হাজার ছাগল ।
তাহলে বাৎসরিক চহিদা ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ছাগল ।
প্রতিটি ফামর্ যদি বৎসরে ৪০০ করে ছাগল উৎপাদন করে ,বৎসরিক ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ছাগল উৎপাদন করতে ৩৪ হাজার ২৫০ টি
ফামর্ প্রয়োজন।
মূল উদ্দেস্য হল :
১) নুতন একটি শিল্প তৈরি করা ।
২) ৩৪ হাজার মালিক + ৩৪ হাজার কমর্চারী = ৬৮ হাজার লোকের কমর্সংস্থান তৈরি করা ।
আনেকে হয়ত ৬৮ হাজারের হিসাব কোথায় পেলাম চিন্তা করছেন সেটা উপরে আছে ।
৩) আর আমদের নিজে কিছু ইনকাম করা । তা ও বলেদিচ্ছি কি ভাবে , আপ
নার যদি ফামর্ থকে, নিশ্চই বৎসরে ২/৩বার বিক্রি করবেন, ১০০ ছাগল বজরে নিতে কম পক্ষে ১০০০ টাকা খরচ হবে, আর আপনি যদি আমাদের সাথে যুক্ত থাকেন , আর আমরা যদি আপনার ছাগল বড়িতে রেখে বিক্রি করে দিতে পারি , আর আপনার বাজারে নেওয়ার খরচ টা আমি চাই , মনে হয় বেশী অন্যায় হবে না।
তা হলে আমাদের বাৎসরিক আয় হবে ৩৮০০০x১০০০ =৩,৮০,০০০০০ মোট ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ।
যত ভালো ভাবে করেন না কেন , কিছু ভুল ত্রুটি থাকবেই , সবকিছু সামলে, প্রথম আয় শুরু হতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে ,
আমাদের ফামর্ সমন্ধে জানতে চান
www.facebook.com/boergoats.bd
/

৫ দিন পর্যন্ত ফল-সবজি টাটকা রাখার প্রযুক্তি


এ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা ছাড়া মাটির প্রকোষ্ঠে বাষ্প-তাপ ব্যবহার করে ফল ও সবজি শোধনের পর সংরক্ষণ করা যায়। এর আগে এক টাকা খরচে মাছ ও ফলে ফরমালিন পরীক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন এই তরুণ বিজ্ঞানী। দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যুৎহীন এলাকার মানুষের কথা ভেবে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান তিনি।
ফারুক বিন হোসেন বলেন, এ প্রযুক্তিতে মান ও গুণ ঠিক রেখে ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত ফল ও সবজি টাটকা রাখা যায়। তরুণ এই বিজ্ঞানী জানান, এটি হল বাস্প-তাপ দিয়ে সবজি ও ফল শোধন তথা সংরক্ষণ যন্ত্র। মাটি ছাড়াও কাঠ, টিন বা ইট দিয়েও এর মূল প্রকোষ্ঠ তৈরি করা যায়। এ যন্ত্রের তিনটি অংশ হল: বাস্প উৎপাদক যন্ত্র, সঞ্চালন নল ও নিয়ন্ত্রণ বাল্ব এবং শোধন বাক্স।

শোধন বাক্স: শোধন বাক্স বা প্রকোষ্ঠটি প্রয়োজন মতো ছোট বড় করে তৈরি করা যায়। ৪-৬ ঘনফুট আয়তনের প্রকোষ্ঠই একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। মাটি, কাঠ, টিন ও ইট-বালি-সিমেন্ট দিয়ে শোধন প্রকোষ্ঠ বা বাক্সের বাইরের স্তর তৈরি করা যায়। এরপর ভেতরের দিকে থাকে এক ইঞ্চি পুরুত্বের কর্কশিট। কর্কসিটটি একটি পাতলা রেক্সিন বা শক্ত পলিথিন শিট দিয়ে আবৃত করে দেয়া হয়, যাতে ভেতর থেকে তাপ এবং বাষ্প বাইরে যেতে না পারে।


বাষ্প উৎপাদন যন্ত্র: ঢাকনাসহ ভাত রান্না করার হাঁড়ি ও তাতে পরিমাণ মতো পানির প্রয়োজন হবে। হাঁড়ির ঢাকনার ওপরের দিকে একটি ছিদ্র থাকে, এ ছিদ্র পথে একটি বাল্বযুক্ত সঞ্চালন লাইন সংযোজন করে তা শোধন বক্সে ঢোকানো হয়, যাতে হাঁড়ির পানি থেকে উৎপাদিত বাষ্প শোধন বাক্সে স্থানান্তর করা যায়। এ বাস্প শোধন বাক্সে ঢুকে প্রকোষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তবে সঞ্চালন লাইনের একটি বাল্বের মাধ্যমে প্রয়োজন মতো শোধন বক্সের জলীয়বাষ্প ঢুকিয়ে তাপমাত্রা  নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

আম, লিচু, পেঁপে, কলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফল এবং টমেটো, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, রসুনসহ বিভিন্ন সবজি এই প্রকোষ্ঠে বিভিন্ন তাপমাত্রায় নির্ধারিত সময় শোধন করে তা কক্ষ তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে বা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে ১৫দিন থেকে এক মাস টাটকা রাখা যায়।

ইয়ামিন জানান, এভাবে সংরক্ষণ করলে আলু-পিঁয়াজের অঙ্কুরোদগম রোধ করে তিন মাস পর্যন্ত ভাল রাখা যায়। এছাড়া এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফল ও সবজির পচনের জন্য দায়ী ক্ষতিকারক ছত্রাক, ব্যাক্টেরিয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাসের কার্যক্ষমতা রোধ করা সম্ভব হয়।

যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি এবং কোল্ড স্টোরেজ নেই , সেসব এলাকার কৃষকরা  ফরমালিন ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই দীর্ঘদিন ফল ও সবজি এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে পারবেন। ইয়ামিন আরো জানান, দুই বছর আগে তিনি এর উদ্ভাবন কাজ শুরু করেন। এখন শুধু কৃষকদের মাঝে কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষা।

মাটি দিয়ে তৈরি শোধন বক্সটি দেখতে অনেকটাই ডিপ ফ্রিজের মতো  বলে অনেকেই একে মাটির ফ্রিজ বলেও আখ্যা দিয়েছেন, বলেন ইয়ামিন।